কুম্ভমেলাকে হার মানাবে গঙ্গাসাগর




গঙ্গা সাগরের ভীড় কাড়তে পারে কুম্ভ। প্রথম দিনে সাগরে এসে এমইটাই মনে করছেন কপিলমুনি দর্শনে আসা বহু তীর্থযাত্রীরা। তবে মাহেন্দ্রক্ষণের সময় এখনো বেশ বাকী। রেকর্ড ভীড় হবে তেমনটাই আশা প্রশাসনের। 
  জলপথে নামখানা থেকে পোঁছানো যায় সাগরের চেমাগুড়িতে ও বেণুবনে।অন্যদিকে কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ থেকে মুড়িগঙ্গা পেরিয়ে আসা যায় সাগরে। কিন্তু দুটি নদী পথ ই শনিবার দেখা কিছুটা হলেও ভীড় কম। তবে এবার পূর্ণস্নান মঙ্গলবার। অন্য বছর হয় ১৪ ই জানুযারী এবার তিথী অনুযায়ী তা ১৫ ই জানুযারী। আর সেই সময় ভীড় সাগর তটে আছড়ে পড়বে আগামী কয়েক বছরের মত এমন্টাই আশা প্রশাষনের।
এক লাফে সরকার অনেক টা বাড়িয়ে দিয়েছে  সাগর মেলার বাজেট। কুম্ভের মত পরিষেবা দিতে বিভিন্ন খাতে বাড়ানো হয়েছে অর্থ বরাদ্দ । পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা কে ঘিরে। এবার বাজেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় একশো কোটি। এবার বাড়ানো হয়েছে হয়েছে ড্রেজিংয়ের টাকা।  তার সত্বেও পুরোপুরিভাবে সচল করা গেল না ভেসেল ও লঞ্চ পরিসেবা। কুয়াশা আর মুড়িগঙ্গার জমে যাওয়া পলিই কিছুটা হলেও ভোগান্তি বাড়িয়েছে পর্যটক থেকে সাধারণ মানুষের।  কাকদ্বীপের  এক থেকে পাঁচ  নম্বর  সমস্ত জেটিই  জলের অভাবে বন্ধ থাকছে ভাঁটার সময় । মুড়িগঙ্গার নদী তে বসানো হয়েছে একাধিক নদীর জলের নাব্যতা মাপার যন্ত্র। তা দিয়ে ও বোঝা যাচ্ছে না মুড়িগঙ্গা স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে। কুয়াশার কারনে যাহাতে  কোন রকম দূর্ঘটনা না ঘটে তা এড়াতে যথেষ্ট সজাগ পুলিশ ও প্রশাসন। রাতে ও কম আলোয় ভেসেলের নেভিগেশন লাইট ও কুয়াশার সময় ভেসেলের ফগ লাইট ব্যাবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটা ফেরি ঘাটে অতিরিক্ত ভীড় সামাল দিতে প্রশাষনের তরফে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ড্রপ গেট।প্রতিটা ড্রপ গেটের দায়িত্বে রাখা হয়েছে পুলিশ অফিসার পর্যায়ে কর্মিদের। একটি ড্রপ গেট থেকে তীর্থযাত্রী খালি না হওয়া পর্যন্ত অন্য ড্রপ থেকে ছাড়া হচ্ছেনা তীর্থযাত্রী দের।প্রতিটা জেটির গ্যাংওয়ে অথবা পল্টুনের উপর দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না কোন যাত্রীদের। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের অফিসার দের রাখা হয়েছে প্রতিটা জেটিঘাটে।একটি ঘটের সঙ্গে অন্য ঘাটের যোগাযোগ রাখার জন্য অফিসার দের দেওয়া হয়েছে  স্যাটেলাইট ফোন।যা থেকে প্রতিনিয়ত বার্তা যাচ্ছে মেলার এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।
      মাথায় ও কাঁধে বিভিন্ন সাইজের পোঁটলা নিয়ে দেখা গেল পূজা দিয়ে ফেরা তীর্থ যাত্রীদের। দেখা গেছে সাধারণ তীর্থযাত্রী দের।প্রশাসনের তরফে বিপদ আটকাতে বার বার মাইকিং করা হচ্ছে তীর্থযাত্রী দের উদ্যেশ্যে।বিভিন্ন ভাষায় চলছে প্রচার।
প্রতিবছর গঙ্গা সাগর মেলা শুরুর আগেই মুড়িগঙ্গা নদীতে শুরু হয় ড্রেজিংয়ের কাজ। এবছর ও শুরু হয়েছিল সেই কাজ। পুরো কাজের দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় আর্ন্তদেশিয় জলপথ পরিবহন সংস্থা।কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থার ড্রেজার পুরো কাজ শেষ করতে পারেনি।প্রতিটা চ্যানেল তৈরির জন্য যে পরিমান বালি কাটানোর কথা ছিল তা কাটার পর ও ড্রেজিং করা জায়গা পুনরায় বন্ধ হয়ে গেছে।ফলে মেলার সময় দেখা দিয়েছে সমস্যা।
নিরাপত্তার জন্য এবার সাগর মেলায় মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক পুলিশ। আট টি বিশেষ বাহিনী কে তৈরী রাখা হয়েছে ।সাগর, কচুবেড়িয়া,কাকদ্বীপ ও নামখানাতে মোতায়েন করা হয়েছে সেই বাহিনীকে। রাতদিন পাহারায় ঘুরচ্ছে ড্রোন ও হেলিকপ্টার। আছে ৮০০ সি সি টি ভি ক্যামেরার নজরদারী ।এবার মেলার নজরদারির জন্য রাখা হয়েছে হিলিয়াম বেলুন।   ড্রোন হিলিয়াম ও সি সি টি ভি ক্যামেরা তোলা ছবি মুহুর্মুহু পৌঁছে যাচ্ছে মেগা কন্ট্রোল রুমে।
 প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইতিমধ্যে প্রায় লক্ষধিক পূর্নাথী মেলা থেকে ফিরে গেছেন পূণ্যস্নান সেরে ও কপিল মুনি মন্দিরে পূজা দিয়ে। আগামী কয়েক দিন তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা যে কয়েক গুন বাড়বে তা বাড়বে বলে মনে করছেন প্রশাসন।
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.