জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের জয় হিন্দের সভাপতি সহ তিন জনের খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ১১


মৃন্ময় নস্কর ,বারুইপুর: বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭ -১৫ নাগাদ জয়নগরের দুর্গা পুরে পেট্রোল পাম্পে এলোপাথএলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে ও বোমা বর্ষণ করে জয়নগরের তৃনমূল কংগ্রেসের জয় হিন্দের সভাপতি সারফুদ্দিন খান ,সহ জয়নগরের তৃনমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বিশ্ব নাথ দাসের গাড়ির চালক মৈনুদ্দিন মোল্লা ওরফে বাবু , আমিন আলি সরদারের খুনের ঘটনায় বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপের পুলিশ ও জয়নগর থানার পুলিশের যৌথ তল্লাশিতে বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ধরা পড়ল মুল শুটার সহ ১১ জন । এদের মধ্যে ৪জন কে শুক্রবার দুপুরে বারুইপুর আদালতে তোলা হয় । খুনের ঘটনার জেরে নিহত তৃনমূল কংগ্রেস কর্মী সারফুদ্দিন খানের স্ত্রি রুপসানা বিবি জয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ।

বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপার অজয় প্রসাদ ,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত ঘোষ , সন্দিপ মণ্ডল , এস ডিপিও অভিষেক মজুমদার সহ জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপের ওসি লক্ষিকান্ত বিশ্বাস সাথে জয়নগর থানার পুলিশ বিশেষ টিম গড়ে এই খুনের ঘটনার তদন্তে নামে । প্রেটল পাম্প থেকে ২ টি সিসি টিভি ফুটেজ পুলিশ উদ্ধার করে ফুটেজ দেখে পুলিশ দোষীদের চিহ্নিত করে । ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ ৪ টি বোমা , ৮ থেকে ৯ টি কার্তুজ সহ কার্তুজের খোল উদ্ধার করে । পুলিশ তদন্তে নেমে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে । বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশান গ্রুপের পুলিশ ও জয়নগর থানার পুলিশ যৌথ ভাবে তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই প্রথমে ধরে মন্দির বাজারের মোচ পুর থেকে সাজামাল লস্কর কে ,পরে জয়নগরের হাসান পুর , ফতেপুর ,মথুরাপুরের হরিদেবপুর থেকে আশিস হালদার , নজরুল গাজি , আব্দুল গফ ফর মোল্লা কে পরে শুক্রবার সকালে প্রথমে জয়নগরের পদুয়া মোড় থেকে ধরা পড়ে মনিরুল ইসলাম গাজি কে । এই মনিরুল ইসলাম গাজি ঘটনার সময় গুলি চালিয়েছিল । এই শুটার মনিরুল কে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের তল্লাশি চালিয়ে বাইস হাটা ,নিম পীঠ ,মথুরাপুর থেকে মেহেদি হাসান লস্কর , হাসিবুল পুরকাইত , এমাদুল খান ,সালাউদ্দিন মণ্ডল , অরিজিত হালদার ,শম্ভু নাইয়া । যদিও অভিযোগে আর এক জন বাবুয়া ওরফে আবু কাহার এর নাম থাকলেও সে পলাতক । তার সন্ধানে ও পুলিশ তল্লাশি করেছে । শুক্রবার দুপুরে জয়নগর থানায় যায় সি আই ডির ৬ জনের প্রতিনিথি দল । সি আই ডি এর টিম ঘটনা স্থলে পৌঁছে বোমা বর্ষণে স্করপিওর গাড়ির নমুনা পরিক্ষা করে । পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা বসেন । পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে ব্যাক্তিগত হিংসা আর কিছু রাজ নৈতিক ইন্ধন জের এই ঘটনা , দুই গোষ্ঠীর মুলত এলাকা দখলের লড়াই । এর পিছনে দুষ্কৃতীদের দল হামলা করলেও এস ইউ সি আই আর সিপিএমের মদত আছে জানিয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি শুভাসিস চক্রবর্তী ও জেলা যুব সভাপতি শওকাত মোল্লা ।পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জানতে পারে । বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭ -১৫ নাগাদ ১২ জন দুষ্কৃতি বাইক নিয়ে এসে দুর্গা পুরের পেট্রল পাম্পের কিছু আগে এক গলির মধ্যে দাঁড়ায় , অনেক মাস আগে থেকেই জয়নগরের তৃনমূলের জয় হিন্দ সভাপতি সারফুদ্দিন খান কে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল । দুষ্কৃতির দল বাইক রেখে হেঁটে পেট্রোল পাম্পের ভেতর ঢোকে । সেই সময় সারফুদ্দিন খান আর গাড়ি চালক মৈ নুদ্দিন স্করপিও গাড়ির সামনের আসনেই ছিল । অপর যুবক আমিন আলি সরদার তার মেয়ের পরিক্ষা সংক্রান্ত ব্যাপারে কথা বলার অন্য সারফুদ্দিনের কাছে এসে ছিল । সে গাড়ির বাইরেই ছিল । দুস্কতির দল ঢুকে প্রথমে বোমা বর্ষণ করে লোক হঠিয়ে দেয় তার পর গাড়ির উপর এলো পাথারি গুলি বর্ষণ করে পরে কুপিয়ে খুন করে সারফুদ্দিন খান সহ গাড়ির চালক মৈনুদ্দিন কে । পালাতে গিয়ে খুন হয়ে যায় যুবক আমির আলি সরদার । খুনের ঘটনার পর দুস্ক্রতিদের দল মন্দিরবাজারের দিকে পালিয়ে যায় । এই খুনের পরিকল্পনার জন্য মেটিয়াবুরুজ বজ বজ থেকে সুপারি কিলার নিয়ে আসা হয়েছিল । খুনের শুটার মনিরুল ,সাজারুল কে এই কাজ করান হয়েছিল । জয়নগরে তৃনমূলের জয় হিন্দ বাহিনির সভাপতি সারফুদ্দিনের সাথে বাবুয়া ওরফে আবু কাহারের বিরোধ হয়েছিল মুলত ব্যাক্তি গত হিংসা নিয়ে ,নিহত সারফুদ্দিন খানের স্করপিও গাড়ি ব্যাবহার করতো বিধায়ক বিশ্ব নাথ দাস এদিকে শুক্রবার দুপুরে প্রথমে জয়নগর থানায় পরে নিহত জয় হিন্দ বাহিনির সভাপতি সারফুদ্দিন খানের , গাড়ি চালক মৈ নুদ্দিনের, আমির আলি সরদারের বাড়িতে যান তৃনমূলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী , সংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়া , জেলা যুব সভাপতি শওকাত মোল্লা , আই এন টি টি ইউ সি সভাপতি শক্তি পদ মণ্ডল ,বিধায়ক বিশ্ব নাথ দাস ।তারা পরিবার কে সম বেদনা জানান ,কথা বলেন পরিবারের সাথে । হাসান পুরের বাসিন্দা নিহত গাড়ি চালক মইনুদ্দিনের স্ত্রী রুমাইয়া বিবি জানান , আমার স্বামীর কোন দোষ ছিল না , ১০ দিন আগে এই সারফুদ্দিনের স্করপিও গাড়ি চালাচ্ছে । ওর নিজব অটো আছে । গাড়ি চালাবার কথা কেউ ডাকলেই চলে যেত । সার ফুদ্দিন কে মারতে এসে আমার স্বামীর জান নিয়ে নিল । বৃহস্পতিবার সকাল ৭ -৩০ টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সারফুদ্দিন গাড়ি চালাবার জন্য ডেকেছিল ,তার পর আর বাড়ি ফেরেনি । আমাদের সংসারের উপার্জন চলে গেল । এর পাশাপাশি ওই হাসান পুরের বাসিন্দা জয় হিন্দ সভাপতি সারফুদ্দিনের স্ত্রি রুপ সানা খাতুন জানায় , আমার ২ টো ছেলে মেয়ে কি করে সংসার চলবে । সারফুদ্দিন কে বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬-৩০ নাগাদ কেউ ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় । তার পর আর বাড়ি ফেরেনি । আমির আলি সরদারের পরিবার জানায় , মেয়ে পঞ্ছম শ্রেনি থেকে ষষ্ঠ শ্রেনিতে উঠবে তার জন্য ফর্মে সইয়ের জন্য আমির আলি ওই দিন সন্ধেতে সারফুদ্দিনের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল , সারফুদ্দিন বলেছিল বিধায়ক পাম্পে আসবে সই হয়ে যাবে । গুলির লড়াইয়ে পালাতে গেলে আচমকা গুলি লাগে ওর পিঠে । এদিকে তৃনমূলের জেলা সভাপতি শুভাসিস চক্রবর্তী জানান , মৃতদের আর্থিক ক্ষতিপুরুনের ব্যাপার দেখা হবে । প্রশাসন কড়া পদ ক্ষেপ নিচ্ছে । ইতিমধ্যেই অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে । আমরা পরিবারের পাশে আছি । দুস্ক্রতিদের দল এই কাজ করেছে ।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.