বিজেপির রথযাত্রার বদলে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা





বিজেপি রথযাত্রা করছে না ৷ বিজেপি ‘গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার’ কথা বলছে ৷ তিন দফায় এই রাজনৈতিক যাত্রা বের হবে রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে ৷ রাজ্যে রথযাত্রার ব্যাপারে নিজেদের মতামত স্পষ্ট করেছে রাজ্য বিজেপি ৷ বিজেপির মতে, ‘রথযাত্রা’ বিষয়টি অনেকটা সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব তৈরি ৷ বিজেপি প্রথম থেকেই গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার কথা বলে আসছে ৷বৃহস্পতিবার কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে এসেছিলেন পাঁচ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল ৷ রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি বিরেন্দ্রর সঙ্গে বৈঠকের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘‘রথযাত্রা নয়৷ আমরা গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা করছি৷’’তবে এই যাত্রা প্রচার কর্মসূচীতে দিলীপ কিংবা বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়কে রথযাত্রা কথা উল্লেখ করতে শোনা গিয়ছে৷ বিজেপি নেতারা এও বলেছেন, রথযাত্রা আটকাতে এলে চাকার নীচে চাপা পড়বে শাসকদল ৷ তবে পোস্টার-ফেস্টুন প্রকাশিত হওয়ার পর সেখানে রথযাত্রা শব্দটির উল্লেখ ছিল না৷ সব জায়গাতে লেখা ছিল - বঙ্গ বিজেপি গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রার আয়োজন করেছে ৷ তিনবার যাত্রার তারিখ বদল হওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এক মাসের অধিক সময়ের জন্য গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রাকে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়৷
এরপরই, পালটা আইনি লড়াইয়ে রাজ্য সরকারকে আলোচনার টেবিলে টানতে সমর্থ হয় বিজেপি ৷ কিন্তু রথযাত্রা শব্দটকে কেন পছন্দ করছে না বিজেপি ? রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল কোনও রাজ্যে রথযাত্রার মতো একটি ধর্মীয় যাত্রা করতে পারে না৷ আর যে রথে স্বয়ং চড়েছেন, জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা বা কুরুক্ষেত্রে যে রথের সারথী হয়ে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনকে ঘুরিয়েছিলে ভগবান শ্রীবিষ্ণু - সেই রথে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ কী করে চড়বেন?বিজেপির সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার রথযাত্রার আইনি দিকটি থতিয়ে দেখছেন ৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আদালতে বিজেপি একটি 'Political Democratic Rally' - এর কথা বলেছে ৷ রাজ্যে ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র এবং ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই যাত্রা হবে ৷ প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করবে এই যাত্রা ৷’’
একথা ঠিক, বিজেপি নেতারা শুরু থেকে রথযাত্রার কথাই বলেছেন ৷ তবে যাত্রার সূচি তৈরির সময় এই যাত্রা নামকরণ করা হয় গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা ৷ প্রেক্ষাপট ছিল, রাজ্যের সদ্যসমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং বিজেপি কর্মীদের হত্যার ঘটনা ৷ রথ যে আদতে ধর্মের রথ নয় তা জানা যায় কিছুদিন পরেই৷ দিল্লি থেকে অত্যাধুনিক শীততাপ বাস পাঠানো হয় ৷ রথ যে আসলে বাতানুকুল ‘হুডখোলা’ পাস তা পরিষ্কার হয়ে যায় ৷বাতানুকুল বাসে রথযাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের বিদ্রুপের মুখে পড়েছিল বিজেপি ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘রাবণ যাত্রা’ বলেছিলেন ৷ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও বাতানুকুল বাসে রথযাত্রা নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছিলেন ৷
কিন্তু ‘রথযাত্রাকে’ বাসযাত্রায় রূপান্তরিত করার পক্রিয়া অত সহজ ছিল না ৷ সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিঘ্নিত হতে পারে এই যুক্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চে রথযাত্রাকে আটকে দিতে পেরেছিল রাজ্য সরকার ৷ আদালতে রাজ্যকে আবার সে সুযোগ করে দিতে চায় না বিজেপি ৷
Loading...

No comments

Powered by Blogger.