দেখুন সতীদেহের বাম গোড়ালি পড়ে অন্যতম বর্গভীমা মন্দির


চাঁদনী, তমলুকঃ পুরাণে কথিত রয়েছে বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রে খণ্ডিত হয়েছে সতীদেহ। আর সেই দেহের বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল তমলুকে। সেই থেকে দেবীর একান্নপিঠের অন্যতম হল তমলুকের বর্গভীমা মন্দির। প্রতিবছর কালীপুজোয় তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে সাড়ম্বরে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী। কথিত আছে মন্দিরটি স্বয়ং বিশ্বকর্মা নির্মাণ করেছিলেন। আবার অনেকের মত, এটি একটি বৌদ্ধবিহার ছিল। তবে তমলুকের বাসিন্দারা বলেন, সেখানকার ময়ূরবংশীয় রাজাই তৈরি করেছিলেন ওই মন্দির। সত্য যাই হোক না কেন লাখো লাখো মানুষের বিশ্বাস রয়েছে দেবীর উপর। অনেকে জানিয়েছেন, দেবী এতটাই জাগ্রত যে তাঁর কাছে কিছু চাইলে মা বিমুখ করেন না।

দেবী বর্গভীমাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গল্পও কথিত রয়েছে। লোকমুখে শোনা যায়, এক ধীবর রমণী প্রতিদিন রাজ বাড়িতে জ্যান্ত মাছের জোগান দিতেন। কিন্তু রোজ জ্যান্ত মাছের জোগান নিয়ে একদিন রাজার সন্দেহ হয়। কৌতূহল বাড়ে তাঁর। তারপর জানতে পারেন স্থানীয় একটি জঙ্গলে একটি রহস্যময় কুণ্ড আছে। যার জল ছিটিয়ে দিলে মৃত মাছ প্রাণ ফিরে পায়। সেভাবেই রাজাকে রোজ জ্যান্ত মাছ দিতেন ওই ধীবর রমণী। একদিন ওই কুণ্ড দেখবেন বলে জঙ্গলে গিয়েছিলেন রাজা। কিন্তু সেদিন তিনি কোনও কুণ্ড দেখতে পাননি। দেখেন কুণ্ডের বদলে একটি বেদি রয়েছে। আর তার উপর রয়েছে এক দেবীর মূর্তি। তারপর রাজা নিজেই সেখানে একটি মন্দির তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।আজ ভোর থেকেই ভক্ত দেড় ভিড় পুজো দেওয়ার জন্য।পুজো চলবে গভীর রাত পর্যন্ত।এই মন্দিরে সারা বৎসর এই পুজো হয়।আর এই মন্দিরে দুর্গা পুজো জগধাত্রী পুজো অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে।দেবী বর্গভিমা মায়ের ভোগ হয় ষোল মাছ দিয়ে।রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমান।আর সারা বৎসর এই এই মন্দিরে বিবাহ অনুষ্ঠান হয়। কথিত আছে তমলুক সহ আশে পাশের সমস্ত কালি পুজোর আগে পদযাত্রা করে দেবী বর্গভিমা মন্দিরে পুকুর ঘট ডুবিয়ে মায়ের আদেশ নিয়ে তবেই পুজো শুরু হয়।
Loading...
Powered by Blogger.