বিএনপি জোট ছাড়ল লেবার পার্টি



সাইফুল আলম, বাংলাদেশঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে সরে গেল এমদাদুল হক চৌধুরী ও হামদুল্লাহ আল মেহেদীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

শুক্রবার সকালে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জোটত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের অপতৎপরতা ও ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর করায় আমরা এই জোটের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।’

এর আগে, শুক্রবার সকালে স্থানীয় একটি হোটেলে লেবার পার্টির নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে তারা জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ভাইস-চেয়ারম্যান হিন্দুরতœ রামকৃষ্ণ সাহা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মহসিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, শামিমা চৌধুরীসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, লেবার পার্টি মনে করে, বিএনপির নেতৃত্বে ৪-দলীয় জোটকে সম্প্রসারণ করে ১৮-দলীয় জোট গঠন করা হয়। এটি পরে ২০-দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। এ জোটের শরিক হিসেবে লেবার পার্টি সাধ্যমতো অবদান রাখায় সচেষ্ট ছিল। এর মধ্যে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং জামায়াতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় দলের আদর্শ ও দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার কারণে লেবার পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ অব্যাহতি দিয়ে এমদাদুল হক চৌধুরীকে চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। দলের অধিকাংশ নেতা তার সঙ্গে থাকলেও বিএনপি ইরানের অংশকেও জোটে রেখে দেয়। আমরা অপমানিত হলেও দেশ-জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিষয়টিকে মেনে নিয়েই জোটের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে ইরান জোটের প্রার্থীর বিপক্ষে সরাসরি নির্বাচনের মাঠে থাকলেও জোটের প্রধান দল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে আমরা তা পর্যবেক্ষণ করছিলাম। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যের নামে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামক একটি জোটের আত্মপ্রকাশ করতে গিয়ে বিএনপি ও তার নতুন বন্ধুরা যেসব ঘটনার অবতারণা করেছেন, তা সত্যিই দুঃখজনক ও হতাশাব্যাঞ্জক। ১/১১-এর কুশীলব ও বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ার নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন, অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে নতুন করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার ষড়যন্ত্র ফুটে উঠে। এ ধরনের গোঁজামিলের জোট দেখে আমরা আতঙ্কিত। শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা কি আরেকটি অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রের অংশীদার হতে যাচ্ছি? লেবার পার্টি মনে করে, নতুন এ জোটের আত্মপ্রকাশ ২০ দলীয় জোটকে অকার্যকর, অন্তঃসারশূন্য করে ফেলেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ক্ষমতার পালাবদলের নামে কোনো অশুভ শক্তির ক্ষমতা গ্রহণ করে আবারও দেশকে রাজনীতিশূন্য করুক— সেটা চায় না।

এই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ লেবার পার্টি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে আজ থেকে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করছে। আমরা নতুন করে পথ চলতে চাই। আমরা আশা করি, সবাই মিলে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আগামী দিনে একটি সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হব।

এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় জেবেল রহমান গানি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ ও খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা নেতৃত্বাধীন ন্যাশলান ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)।
Loading...
Powered by Blogger.