স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগী! জয়া-অমিতাভের কারণে চোখের জল ফেলেন পরভিন ববি

স্কিৎজোফ্রেনিয়া রোগী! জয়া-অমিতাভের কারণে চোখের জল ফেলেন পরভিন ববি

প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত প্রকাশ করেছিলেন যে, ১৯৮১ সালের সিনেমা ‘সিলসিলা’ -এ রেখা এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করার জন্য পারভীন ববিকেই প্রথমে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জয়া বচ্চন আসেন সেই জায়গায়। এএনআই-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে, রঞ্জিত পারভিন বাবির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বন্ধন সামনে আনেন। জানান যে, সিলসিলা থেকে বাদ পড়া মনে গভীর আঘাত এনেছিল পরভিনের। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে মারা যান পরভিন ববি। 

‘তিনি (পারভীন বাবি) আমার প্রিয় বন্ধু ছিলেন… তিনি একাই ছিলেন। তিনি খুব সুন্দরী।সবসময় হাসতেন এবং ওঁর দাঁতের কারণে আমরা ওঁকে ‘ফাওয়াদা’ বলে ডাকতাম। একবার মনে আছে, তিনি খুব বিরক্ত হয়েছিলেন এবং কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম ‘কী হয়েছে পরভিন’। আমরা তখন কাশ্মীরে ছিলাম। এটা সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা। আসলে ‘সিলসিলা’ তৈরি হওয়ার কথা চলছিল আর পারভীন বাবি ছিলেন সেই ছবির নায়িকা। তবে তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল। একটি গিমিক বিতর্কের কারণে, তাঁরা রেখা এবং জয়া ভাদুড়িকে ছবিতে কাস্ট করেছিল। অন্যথায় কাজের কথা ছিল পরভিন এবং রেখার।’, বলতে শোনা গেল রঞ্জিতকে। 

মজবুর, দিওয়ার, অমর আকবর অ্যান্টনির মতো সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছিলেন অমিতাভ আর পরভিন। দুজনের একটা রোম্যান্টিক সম্পর্কের কানাঘুষোও ছিল। তবে সেই পরভিনই মৃত্যুর কিছু মাস আগে, অমিতাভের উপর অভিযোগ আনেন ১৯৯৩ সালের মুম্বই বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বিগ বি। 

আসলে বলিউড কেরিয়ার বরাবরই বিতর্কিত পরভিন ববির। ১৯৭২ সালে মডেল হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেন তিনি। মডেলিং করতে করতেই রুপোলি পর্দায় নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পান। ১৯৭৩ সালে ‘চরিত্র’ সিনেমার হাত ধরে বলিউডে হাতেখড়ি হয় পারভিনের। বক্স অফিসে ওই ছবি না চললেও পারভিনের উপস্থিতি নজর কাড়ে। বলিপাড়ায় প্রথমে অভিনেতা-পরিচালক ড্যানি ডেনজংপার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন পারভিন। ড্যানির পরে অভিনেতা কবীর বেদীর প্রেমে পড়েছিলেন পারভিন। তবে সেই প্রেমও টেকেনি। 

এরপর পরভিনের প্রেম হয়েছিল মহেশ ভাটের সঙ্গে। মহেশ তখন বিবাহিত। ১৯৭৭ সালে একে-অপরের সঙ্গে ডেট শুরু করেন তাঁরা। মহেশ এবং পরভিনের প্রেমকাহিনি ছিল সেইসময় বলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয়। সেই সময় লিভ ইনও করছিলেন তাঁরা। স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন পারভিন। প্রেমিকার শেষযাত্রাতেও সঙ্গ দিয়েছিলেন মহেশ ভাট। 

পরভিনকে সামলাতে সেই সময় কম হিমশিম খাননি মহেশ। তবে একসময় ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। মানসিক রোগ আরও বেশি করে ঘর করে পরভিনের মনে। একসময় গোটা বলিউড সম্পর্ক ত্যাগ করেছিল পরভিনের সঙ্গে। 

২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় অভিনেত্রীর দেহ। বাড়ির দরজায় ৩ দিন ধরে খবরের কাগজ পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় সকলের। পরে পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, ৩ দিন আগেই মৃত্যু হয়েছে পরভিনের। অবশ্য তদন্তে কোনও অস্বাভাবিকতা খুঁজে পায়নি পুলিশ।

পরভিনের মৃত্যুর পর তাঁর জীবন নিয়ে একটি ছবিও বানান মহেশ। এই ছবিটি প্রযোজনাও করেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে মুক্তি পায় সেই ছবি। যার নাম ‘ও লমহে’। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত।

Entertainment