‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’! যুদ্ধের মাঝেই নিষিদ্ধ হল আল-জাজিরা

‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’! যুদ্ধের মাঝেই নিষিদ্ধ হল আল-জাজিরা

সন্ত্রাসী চ্যানেলের আখ্যা পেয়েছে আল-জাজিরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অবিলম্বে কাতারের নিউজ চ্যানেল আল-জাজিরাকে নিষিদ্ধ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে তিনি আল-জাজিরার সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি আল-জাজিরাকে ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’ হিসেবেও অভিযুক্ত করেছেন এদিন। নেতানিয়াহুর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আল জাজিরা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে চলেছে। তাই নেতানিয়াহুর চোখে এই চ্যানেলটি সন্ত্রাসী চ্যানেলই বটে।

  • যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে আল-জাজিরাও

ইজরায়েলের যোগাযোগমন্ত্রীর অভিযোগ, হামাস সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আল জাজিরার সাংবাদিকরাও অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। ইজরায়েল সরকার দীর্ঘদিন ধরেই আল জাজিরার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে আসছে। তিনি বলেছেন যে আল জাজিরার সাংবাদিকরা হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন।

  • ঠিক কী জানালেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহু তাঁর পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘আল জাজিরা ইজরায়েলের নিরাপত্তার ক্ষতি করেছে, ৭ই অক্টোবরের গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এখন সময় এসেছে আমাদের দেশ থেকে এটি দূর করার।’ তিনি আরও লিখেছেন যে, ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল আল-জাজিরা আর ইজরায়েল থেকে সম্প্রচার করবে না। চ্যানেলটির কার্যক্রম বন্ধে নতুন আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।’ তাই তিনি যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারাই কর্তৃক উন্নীত আইনকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

  • কী ঘটেছিল ৭ই অক্টোবর

ইজরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এই দিনেই। জঙ্গি গোষ্ঠীর ৭ই অক্টোবরের হামলার ফলে ইজরায়েলে প্রায় ১,১6০ জন নিহত হয়েছিলেম। ইজরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানের এএফপির সমীক্ষা অনুসারে, নিহতদের বেশিরভাগই অসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। এদিকে হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইজরায়েলের প্রতিশোধমূলক অভিযানে অন্তত ৩২,৮৪৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

  • মধ্যরাতে বসেছিল সংসদ অধিবেশন

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মধ্যরাতে পার্লামেন্ট ডেকেছিলেন। সোমবার সংসদ একটি আইন পাস করার পর নেতানিয়াহু ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নেতানিয়াহু আল জাজিরার বিরুদ্ধে ইজরায়েলি নিরাপত্তার ক্ষতি, সাত অক্টোবর হামাসের হামলায় অংশ নেওয়া এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

  • অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল জাজিরা

আল জাজিরা তীব্রভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং গাজা উপত্যকায় আল জাজিরা কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্তও করেছে। জানা গিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আল জাজিরার ব্যুরো প্রধান, ওয়ায়েল আল-দাহদুহও আহত হয়েছিলেন, ডিসেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় নেটওয়ার্কের ক্যামেরাম্যান নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে, রবিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সফল হার্নিয়া অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর অস্ত্রোপচার এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন গাজায় হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষ অব্যাহত।

  • যুদ্ধ কি এখন আরও তীব্র হবে

প্রায় ৬ মাস ধরে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ অবিরত। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইতিমধ্যেই। কিন্তু এখনও থামতে নারাজ ইসরাইল। চলমান এই যুদ্ধের মধ্যেই বড় কিছু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইজরায়েল। এবার নাকি আমেরিকার কাছে অস্ত্রের সাহায্য চেয়ে বসেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। দক্ষিণ গাজায় ইজরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং উদ্বেগের মধ্যেই, বাইডেন প্রশাসন ইজরায়েলে বিলিয়ন ডলারের বোমা এবং যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের অনুমোদনও দিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যেই।

World