শেষ বলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, লড়াই করেও জিতল না গুজরাট

শেষ বলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, লড়াই করেও জিতল না গুজরাট

আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আরও একটি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ বলের থ্রিলারে শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে আইপিএলের প্লে-অফের লড়াইয়ে পুরোদমে টিকে থাকল দিল্লি ক্যাপিটালস। প্লে-অফের লড়াইয়ে থাকতে হলে, ঘরের মাঠে এই ম্যাচটি জেতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল দিল্লির কাছে। বুধবার অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসলেন ঋষভ পন্তই।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৯ রান। মুকেশ কুমার বল করতে এলে, তাঁকে প্রথম দুই ডেলিভারিতেই চার হাঁকান রশিদ খান। এর পর ৪ বলে ১১ রান দরকার ছিল। পরের দুই বলে কোনও রান হয়নি। কিন্তু পঞ্চম বলে লম্বা ছক্কা হাঁকান রশিদ। শেষ বলে আর মাত্র ৫ রান দরকার ছিল। চার মারলে টাই হতো, সুপার ওভারে গড়াত ম্যাচ। আর ছক্কা মারলে জিতে যেত গুজরাট। কিন্তু শেষ বলে কোনও রান হয়নি। কোনও মতে চার রানে ম্যাচ জিতে বড় অক্সিজেন পেল দিল্লি ক্যাপিটালস। দিল্লির দেওয়া ২২৫ রান তাড়া করতে নেমে, ২২০ রানে থেমে যায় গুজরাট টাইটান্সের ইনিংস।

টস হেরে এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। ব্যাট হাতে ইনিংসের শুরুটা যতটা খারাপ করেছিল দিল্লি, শেষটা কিন্তু ততটাই বিধ্বংসী মেজাজে করে তারা। বুধবার ঘরের মাঠে গুজরাট জায়ান্টসের বিরুদ্ধে শেষ দুই ওভারে হাফসেঞ্চুরি করে ফেলে দিল্লি। যার নিটফল, পাওয়ার প্লে-তে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ডিসি-র স্কোর ছাপিয়ে যায় ২০০।

পাওয়ার প্লে-র শেষে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে একেবারে কেঁপে গিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। পৃথ্বী শ’ (৭ বলে ১১), জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক (১৪ বলে ২৩) এবং শাই হোপ (৬ বলে ৫) সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। পাওয়ার প্লে-তে এই তিন উইকেটই তুলে নেন সন্দীপ ওয়ারিয়র। কিন্তু এর পরেই ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করেন অক্ষর প্যাটেল এবং ঋষভ পন্ত মিলে। দু’জনে চতুর্থ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১১৩ রান যোগ করেন। এতে পায়ের তলার জমি খুঁজে পায় দিল্লি ক্যাপিটালস। তবে ১৭তম ওভারের শেষ ডেলিভারিতে ৪৩ বলে ৬৬ করে অক্ষর সাজঘরে ফিরলে, ক্রিজে আসেন ত্রিস্তান স্টাবস। তার পরেই দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বয়ে যায় সুনামী।

দিল্লির ইনিংসের ১৮তম ওভারে আসে ১৪ রান। ১৯তম ওভারে হয় ২২ রান। আর ২০তম ওভারে ৩১ রান যোগ করে দিল্লি ক্যাপিটালস। শেষ দুই ওভারে মোট ৫৩ রান করে দিল্লি ক্যাপিটালস নজিরও গড়ে ফেলে। আইপিএলের ইতিহাসে শেষ দুই ওভারে যে কোনও দলের করা সর্বোচ্চ স্কোর এটি।

৪৩ বলে ৮৮ করে অপরাজিত থাকেন দিল্লির অধিনায়ক। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে রয়েছে ৮টি ছক্কা এবং ৫টি চার। ত্রিস্তান স্টাবস আবার ২টি ছক্কা এবং তিনটি চারের সৌজন্যে ৭ বলে ২৬ করে অপরাজিত থাকেন। পাওয়ার প্লে-তে সন্দীপ ওয়ারিয়র তিন উইকেট নিয়ে গুজরাট জায়ান্টসকে যে সুবিধে করে দিয়েছিলেন, সেটা শেষ পর্যন্ত কাজে এল না। ৪ উইকেটে ২২৪ রান করে দিল্লি পালটা চাপ বাড়ায় গুজরাটের উপর।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গুজরাট। নিজের ১০০তম আইপিএল ম্যাচে নিরাশ করেন শুভমন। দলের যখন ১৩ রান, তখন ৫ বলে ৬ করে সাজঘরে ফেরেন গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক। তবে দ্বিতীয় উইকেটে হাল ধরেছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা এবং সাই সুদর্শন। ঋদ্ধি ২৫ বলে ৩৯ করে সাজঘরে ফেরেন। সাই সুদর্শন অবশ্য ৭টি চার এবং ২টি ছক্কার হাত ধরে ৩৯ বলে ৬৫ রান করেন। এর পর পাঁচে নেমে ডেভিড মিলার ঝড়ো মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন। মিলার যখন খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল তিনি দলকে জিতিয়েই মাঠে ছাড়বেন। কিন্তু ১৭.৩ ওভারে মুকেশ কুমার সাজঘরে ফেরান মিলারকে। ৩টি ছয়, ৬টি চারের হাত ধরে মিলার ২৩ বলে ৫৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন।

মিলার আউট হলেও, হাল ছাড়েনি গুজরাট। নয়ে নেমে সাই কিশোর ২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৬ বলে ১৩ করে ফেলেন। কিন্তু ১৯তম ওভারের শেষ বলে তিনিও আউট হয়ে যান। তবে শেষ ওভারে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রশিদ খান। কিন্তু লড়াই করেও তিনি শেষ পর্যন্ত জেতাতে পারেননি। ১১ বলে ২১ করে অপরাজিত থাকেন রশিদ। দিল্লির হয়ে তিন উইকেট তুলে নিয়েছেন রশিখ সালাম। ২ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ যাদব।

Sports