শাহরুখের সঙ্গে জোর টক্কর হৃতিকের!

শাহরুখের সঙ্গে জোর টক্কর হৃতিকের!

বলিউডের তিন খানকে নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনার অন্ত নেই। ৯০-এর দশকে প্রযোজকরা তাঁদের তিনজনের মধ্যে কোনও একজনকে রাখতে চাইতেন নিজেদের ছবিতে, কারণ তাঁরা মানেই ছবি সুপারহিট। তবে কিছুটা সময় যাওয়ার পর এই ছবিটা পাল্টে যায়। আমির খান অন্যধারার ছবিতে মনোনিবেশ করেন। কাজের সংখ্যাও কমিয়ে আনেন। অন্যদিকে, সলমন খানকে ঘিরে গড়ে ওঠে অন্য একটা ফ্যানবেস। কিন্তু তাঁদের মধ্যে একমাত্র শাহরুখ খানই ছিলেন যিনি সব ধারার ছবিতে সাবলীল ভাবে কাজ করে, সমস্ত ধরনের দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। বলিউড বাদশা শাহরুখকে ঘিরেই তখন সব আলোকবৃত্ত। কিন্তু তার মাঝেই ঘটে ছন্দপতন। বলিউডে পা রাখে এক নতুন হিরো। অভিনয়ের ধরণ হোক বা নাচের কায়দা সবটা একেবারে ঝাঁ চকচকে নতুন। বলা ভালো, তাঁর আগে কোনও হিরোকেই এমন সাবলীল ভঙ্গিতে নাচ করতে দেখেনি হিন্দি ছবির দর্শকরা। কে এই নতুন হিরো? তিনি হলেন হৃতিক রোশন।

২০০০ সালে ‘কাহো না পেয়ার হে’-র মুক্তির পর দেশ জুড়ে শুরু হয় ‘হৃতিক ম্যানিয়া’। হৃতিক ম্যাজিক তখন সর্বত্র। চায়ের দোকান থেকে ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁর আড্ডা সবটাই হৃতিক মুখর। বহু মহিলার স্বপ্নের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। কিং খানের সঙ্গে হয় জোর টক্কর, তবে অবশ্যই তা ব্যক্তিগত বৃত্তে কখনওই পৌঁছয়নি। ‘কহ না পেয়ার হে’-র পর ঋত্বিক তখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ‘ফিজা’ ও ‘মিশন কাশ্মীর’-এর। অন্যদিকে, শাহরুখের হাতে তখন ‘ওয়ান টু কা ফোর’, ‘জোশ’ এবং ‘মহব্বতে’-এর মতো তিনটি বড় প্রোজেক্ট।

কিন্তু তারপরই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, ‘ফিজা’ মুক্তির আগে দুটো খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রথমত, এই ছবিতে মূল ভূমিকায় থাকছেন না হৃতিক, ছবিতে তিনি কারিশ্মা কাপুরের সহ অভিনেতা। দ্বিতীয়ত, ছবিটি মহিলাকেন্দ্রিক। ফলে সবটা নিয়ে শুরু হয় নেগেটিভ পাবলিসিটি। যা হৃতিকের জনপ্রিয়তাতেও কিছুটা প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বক্স অফিসেও ছবিটি সেই ভাবে ব্যবসা করতে পারে না। কিন্তু তাতেও থামেনি শাহরুখ ও হৃতিক ভক্তদের বিরোধিতা। আর এইসবের মাঝেই একই দিনে মুক্তি পায় ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘মহব্বতে’। কিন্তু এখানেও তৈরি হয় সমস্যা। ‘মিশন কাশ্মীর’-এ হৃতিকের বাবার ভূমিকায় ছিলেন সঞ্জয় দত্ত। সেই সময় তিনি কোনও হিরোর বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না তাঁর বহু অনুরাগী। ফলে ছবিটি ভালো ব্যবসা করলেও, আশানুরূপ করতে পারে না। অন্যদিকে, মহব্বতে হয়ে যায় হিট, তবে অবশ্যই শাহরুখের অন্যান্য হিট ছবির নিরিখে এটি কম ব্যবসা করে। তবে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা অবশ্য এগিয়ে রাখে ‘মিশন কাশ্মীর’কেই।

এরপর আসে ২০০১ সাল। সেখানেও শাহরুখ ও হৃতিকের পর পর বহু ছবি আসতে থাকে। কিন্তু দুজনেই সমান ভাবে হিট দিতে ব্যর্থ হন।অবেশেষে ২০০১-এর একেবারে শেষের দিকে মুক্তি পায় বহু প্রতীক্ষিত ‘কভি খুশি কভি গম’। আর সেখানেই শাহরুখ ও হৃতিকে একসঙ্গে দেখেন দর্শকরা, তাও একে অপরের ভাইয়ের ভূমিকায়, তৈরি হয় ইতিহাস।

কিন্তু এত কিছুর পরও ‘শাহরুখ না হৃতিক’ এই দ্বন্দ ছিল অব্যহত। এরপর ২০০২ সালে আসে ‘দেবদাস’। প্রবল হিট হয় ছবিটি। কিং খান স্বমহিমায় আবার ফেরেন, দৌড়ে পিছনে ফেলে দেন হৃতিকে। কিন্তু ২০০৩-এ ‘কয়ি মিল গায়া’ ছবিতে দারুণ অভিনয় করে সবাইকে চমকে দেন হৃতিক। ‘কহ না পেয়ার হে’-এর রেকর্ডকেও ভেঙে দেয় এই সিনেমা। হৃতিকের নতুন ফ্যানবেস তৈরি হয়। তারপরই আসে শাহরুখের ‘কাল হো না হো’। সেটাও বক্সঅফিসে হিট করে।

এরপর ২০০৪ সাল আসতে আসতে মোটামুটি ভাবে সকলে ভুলতে বসে শাহরুখ-হৃতিক দ্বন্দের কথা। সেই বছরই আসে ফারহান আখতারের পরিচালনায় হৃতিকের অন্যতম জনপ্রিয় ছবি ‘লক্ষ’। অন্যদিকে, আসে শাহরুখের পর পর তিনটি বড় ছবি। ‘স্বদেশ’, ‘মে হু না’, ‘ভীর-জারা’ এবং তিনটি ছবিই সমান ভাবে জনপ্রিয়তা পায়। আর ২০০৪ শেষ হতে হতেই ‘শাহরুখ বনাম হৃতিক’ একেবারে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সব কিছুর পরও বলাই যায় ২০০০-২০০১ ‘হৃতিক ম্যানিয়া’ মজে ছিল বলিউডের দর্শক। সেটা নেটিজেনদের কথাতেই স্পষ্ট।

Entertainment