বিড়ি বাঁধছে কন্যাশ্রীরা! রুকসানাদের লক্ষ্য স্বপ্নপূরণ

বিড়ি বাঁধছে কন্যাশ্রীরা! রুকসানাদের লক্ষ্য স্বপ্নপূরণ

স্কুল থেকে ফিরে ব্যাগটা কোনওরকমে রেখেই বিড়ি বাঁধতে বসে যায় সাহিনা, রুকসানারা( নাম পরিবর্তিত)। মাঝে বাড়িতে গিয়ে একটু খেয়েই রাস্তার পাশে একচিলতে জায়গায়, কেউ বা উঠোনে বসে যায় বিড়ি বাঁধতে। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর, ঔরঙ্গবাদের ঘরে ঘরে এই ছবি। কেউ পড়ে ক্লাস ফাইভে, কেউ ক্লাস সেভেনে। আবার অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির ছাত্রীরাও রয়েছে। স্কুল থেকে ফিরে, কিংবা স্কুল যাওয়ার আগে তাদের অন্যতম কাজ হল বিড়ি বাঁধা।

তবে বিড়ি বাঁধতে গিয়ে সকলেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে এমনটা নয়। আসলে বিড়ি বাঁধার জন্য তাদের হাতে আসে বাড়তি কিছু টাকা। আর সেই টাকাতেই বাড়ির অভিভাবকদের কিছুটা হলেও সুরাহা হয়। কিন্তু ভোটমুখী মুর্শিদাবাদে এ কোন ছবি! 

১০০০ টা বিড়ি বাঁধলেই ১৮০ টাকা মজুরি। তবে সকলেই যে সারাদিনে হাজারটা বিড়ি বাঁধতে পারে এমনটা নয়।তবু চেষ্টাটা করেই যাচ্ছে ওই কিশোরীরা। ঝুঁকি নিয়ে এই কাজে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা। 

স্কুল থেকে এসে যখন অনেকে খেলতে যায়, কিংবা টিভি দেখে বাড়িতে তখন এই কিশোরীর দল বিড়ি বাঁধতে বসে যায়। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে এই একই ছবি। 

তবে শুধু যে স্কুলের ছাত্রীরাই বিড়ি বাঁধছে তেমনটা নয়, কলেজের ছাত্রীরাও বিড়ি বাঁধছে রোজ। সামসেরগঞ্জেই এক কলেজ ছাত্রী হিন্দুস্তান টাইমস বাংলাকে বলেন, কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। স্কুল জীবনেও বিড়ি বাঁধতাম। এখনও সেটাই করি। পড়াশোনাটা তো চালাতে হবে।  

পড়াশোনা করা। ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়া। চাকরির পরীক্ষা দেওয়া। ধীরে ধীরে স্বপ্নপূরণের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু সবটাই এই বিড়ি বেঁধে। সেই ক্লাস ফোর-ফাইভ থেকেই একই ছবি।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা সত্যম সরকার বলেন, আসলে কী জানেন সামসেরগঞ্জ, ঔরঙ্গবাদ এলাকায় বহু পরিবার এই বিড়ি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁদের পাশে থাকার জন্য় আমরা সবরকমভাবে চেষ্টা করি। 

কিন্তু এরপরেও প্রশ্ন উঠছে এই যে ছোট ছোট হাত যুক্ত হচ্ছে বিড়ি বাঁধার কাজে তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কি কেউ খোঁজ রাখছে? অনেকেরই মতে বিড়ি বাঁধার ক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। সেক্ষেত্রে এই যে কিশোরীরা দিনের পর দিন ধরে বিড়ি বাঁধছেন তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কি কেউ খোঁজ রাখছে? 

প্রশ্ন করতেই একাধিক মহিলা বিড়ি শ্রমিক বলেন, এটা ছাড়া তো আমাদের কিছু করারও নেই। বছরের পর বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। বাড়ির পুরুষ সদস্য চলে যান ভিনরাজ্যে কাজ করতে।আর বাড়ির মহিলা সদস্যরা বসে যান বিড়ি বাঁধতে। স্বাস্থ্য়ের কথা ভাবতে গেলে কি আর পয়সা উপায় করা যাবে?  

Offbeat West Bengal