‘বিজেপিতে যোগের প্রস্তাব! নয়ত জেল যাত্রার হুঁশিয়ারি’

‘বিজেপিতে যোগের প্রস্তাব! নয়ত জেল যাত্রার হুঁশিয়ারি’

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন আবগারি কেলেঙ্কারি মামলায়। ইডি হেফাজত থেকে জেলে পাঠানো হয়েছে কেজরিকে। এরই মাঝে ইডি আদালতে দাবি করে, কেজরিওয়াল নাকি জেরার সময় দিল্লির মন্ত্রী অতিশির নাম নিয়েছেন। এই আবহে এবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্ফোরক দাবি করলেন দিল্লির মন্ত্রী। অতিশি আজ অভিযোগ করলেন, তাঁর এক বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে বিজেপি তাঁকে তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অতিশি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি নাকি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তিনি যদি দল বদল না করেন, তাহলে এক মাসের মধ্যে ইডি তাঁকেও গ্রেফতার করবে।

এদিকে শুধু তাঁকেই নয়, অতিশির দাবি, সৌরভ ভরদ্বাজ, দুর্গেশ পাঠক এবং রাঘব চাড্ডাকেও ইডি গ্রেফতার করবে ইডি। অতিশি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে, খুবই শীঘ্রই ইডি আমাদের বাড়িতে হানা দেবে। এরপরই আমাদের তারা হেফাজতে নেবে। বিজেপি এখন আম আদমি পার্টির পরবর্তী প্রজন্মের নেতাদের আক্রমণ করছে।’ অতিশি বলেন, ‘ব্যক্তিগত সহযোগীর মাধ্যমে আমাকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, হয় আমি বিজেপিতে যোগ দিতে পারি এবং আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বাঁচাতে পারি বা আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রেফতার হতে পারি। আমার খুব কাছের একজন ব্যক্তি আমাকে বলেছিলেন, যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রত্যেক আম আদমি পার্টি নেতাকে জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সত্যেন্দ্র জৈন, মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিং থেকে শুরু করে এখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এখন তাঁরা আরও চার শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করতে চায়। আমি, রাঘব চাড্ডা, দুর্গেশ পাঠক এবং সৌরভ ভরদ্বাজ তাঁদের নজরে আছি।’ 

অতিশি বলেন, আমার এবং আমার আত্মীয়দের বাড়িতে অভিযান চালানো হবে। তারপর আমাদের সমন জারি করা হবে এবং তারপরে আমাদের জেলে পাঠানো হবে। কিন্তু আমি বিজেপিকে বলতে চাই যে আমরা ভয় পাই না। আমাদের সবাইকে জেলে রাখুন, আমরা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে থাকব। সবাইকে ভিতরে রাখুন। আরও ১০ জন আমাদের জায়গা নেবে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের লড়াইয়ে যোগ দেবে।’

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের মুখে দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি ঘিরে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এদিকে আদালতে ইডির পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘বিজয় নায়ার তাঁর কাছে রিপোর্ট করেন না। তিনি দিল্লির মন্ত্রী অতিশি মারলেনা ও সৌরভ ভরদ্বাজের কাছে রিপোর্ট করেন। তাঁর সঙ্গে বিজয় নায়ারের দেখাশোনা খুবই কম ছিল।’ প্রসঙ্গত, দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় এই বিজয় নায়ারের নাম উঠে আসে। এককালে আম আদমি পার্টির কমিউনিকেশন ইন চার্জ ছিলেন এই বিজয় নায়ার।

India Politics