‘পুরীর থেকেও বড় মন্দির দিঘায়,’ দাবি মমতার, ‘জগন্নাথদেব সুবুদ্ধি দিন’

‘পুরীর থেকেও বড় মন্দির দিঘায়,’ দাবি মমতার, ‘জগন্নাথদেব সুবুদ্ধি দিন’

কার মন্দির কত বড় সেটা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ দিঘার মন্দির বড় নাকি পুরীর জগন্নাথ মন্দির বড়!

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে বলতে শোনা যাচ্ছে, দিঘাতে আপনারা জানেন তো পুরীর জগন্নাথ মন্দির যত বড় তত বড় মন্দির তৈরি হচ্ছে। কী দেখেছেন! যাবেন কিন্তু যেদিন উদ্বোধন হবে। আমরা নন কমপ্লিট করি না…অসম্পূর্ণ করি না। রাজনীতিতে ছবি তোলার জন্য। আমাদের ঠাকুরও এসে গেছে। কিন্তু যেহেতু ভোট। আমি এখন করব না। কিছু কাজ বাকি রয়েছে। ইলেকশনের পরে সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেখাব, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের থেকেও এটা আরও বড় মন্দির হয়েছে। এবং তার ভোগঘর থেকে শুরু করে সব কিছু। বলছেন মমতা। পোস্ট করেছেন শুভেন্দু। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।

এই ভিডিয়ো পোস্ট করে শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘সারা বিশ্বের অনেকেরই মতো বাঙালির প্রাণের শহর উৎকলের শ্রীক্ষেত্র। পুরীর জগন্নাথ ধাম সনাতন ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জগন্নাথ অবতারে পুরীর মন্দিরে অধিষ্ঠান করেন, সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বড় ভাই বলভদ্র ও ছোট বোন সুভদ্রাও একই আসনে অধিষ্ঠান করেন।

পুরীর রথযাত্রা উপলক্ষে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ, রথ টানার জন্য জনপ্লাবন সৃষ্টি হয় প্রতি বছর।

কয়েক শতাব্দী পূর্বে নির্মিত অলৌকিক এই মন্দিরের সঙ্গে কত আশ্চর্যজনক ঘটনা জড়িত তার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানও দিতে ব্যর্থ। যেমন মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকা লাগানো থাকে, সবসময় যে দিকে হাওয়া চলে তার বিপরীত দিকে পতাকাটি ওড়ে।

জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রায় ৪ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং ২১৪ ফুট উঁচু, অথচ এই মন্দিরের চূড়ার কোনও ছায়া দেখা যায় না।

মন্দিরের চূড়ায় একটি চক্র লাগানো রয়েছে, যে কোনও প্রান্ত থেকে ওই চক্রের দিকে তাকান, মনে হবে চক্রটি আপনার দিকেই ঘোরানো। চক্রটির ওজন প্রায় এক টন। ১২ শতকে মন্দির নির্মাণের সময় চূড়ায় কিভাবে বসানো হয়েছিল, তা এক রহস্য, কারণ সেই সময় প্রযুক্তি কতটা উন্নত ছিল তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জনশ্রুতি, লোকগাথা, পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাসের আবরণে মোড়া প্রাচীন ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র; পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের থেকেও নাকি ‘বড় মন্দির’ বানাচ্ছেন মাননীয়া !

দম্ভ যখন মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে তখন মানুষ আবোল তাবোল বকে।

মহাপ্রভু জগন্নাথ দেব ওনাকে সুবুদ্ধি প্রদান করুন এই প্রার্থনা করি।’ লিখেছেন শুভেন্দু। আর শেষে তিনি লিখেছেন জয় জগন্নাথ।

কার্যত কোন মন্দির কার থেকে বড় তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে এবার। আর ভোটবাজারে সেটাই যেন অন্য মাত্রা দিল এবার।

loksabha Election 2024 Politics West Bengal