জয়সূর্যর ব্যাটের কানায় লাগা বল ধরতে ব্যর্থ বাংলাদেশের তিন ফিল্ডার

জয়সূর্যর ব্যাটের কানায় লাগা বল ধরতে ব্যর্থ বাংলাদেশের তিন ফিল্ডার

সবে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ। হার-জিতের প্রসঙ্গ পরে আসবে, আপাতত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সবাই মিলে ক্যাচ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন নিশ্চিত। অর্থাৎ, বিষয়টা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সবে মিলে ছাড়ি ক্যাচ, হারি জিতি নাহি লাজ!

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিংকে এককথায় জঘন্য বলা চলে। প্রথম দিনে দ্বিতীয় স্লিপে শ্রীলঙ্কা ওপেনার নিশান মদুষ্কার ক্যাচ ছাড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। ডিপ ফাইন লেগে দিমুথ করুণারত্নের ক্যাচ ছাড়েন শাকিব আল হাসান। শাহাদত হোসেন স্লিপে ক্যাচ ছাড়েন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের। করুণারত্নেকে একবার রান-আউট করার সুযোগ নষ্ট করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিনে খারাপ ফিল্ডিংয়ের সেই ধারা বজায় রাখে বাংলাদেশ। এবার আর একা একা নয়, বরং দলগত প্রচেষ্টায় ক্যাচ মিসের নমুনা পেশ করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। ক্রিকেটে রিলে ক্যাচ এখন হামেশাই দেখা যায়। বাউন্ডারি লাইনের বাইরে চলে যাওয়ার আগে একজন ফিল্ডারকে বল ধরে অন্য ফিল্ডারের হাতে ছুঁড়ে দিতে দেখা যায় প্রায়শই। এমনকি ঠিক মতো বল হাতে না এলে একই ফিল্ডারকে জাগলিং করে একাধিক প্রচেষ্টায় ক্যাচ ধরতেও দেখা যায়। রবিবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জাগলিং করে রিল ক্যাচ মিসের উদাহরণ পেশ করে।

ইনিংসের ১২০.৫ ওভারে খালেদ আহমেদের বল জয়সূর্যর ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর কাছে যায়। শান্ত একাধিক প্রচেষ্টায় বল ধরতে পারেননি। তাঁর হাত থেকে বল ছিটকে যায় দ্বিতীয় স্লিপে ফিল্ডিং করা শাহাদতের কাছে। তিনিও বল তালুবন্দি করতে পারেননি। তাঁর হাতে লেগে বল ফের হাওয়ায় ভেসে যায়। এবার তৃতীয় স্লিপে ফিল্ডিং করা জাকির শরীর ছুঁড়ে বলে হাত লাগালেও ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন।

জয়সূর্য তখন ৬ রানে ব্যাট করছিলেন। শেষমেশ তিনি ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। উল্লেখ্য ইনিংসের শুরুতেই জীবনদান পাওয়া নিশান করেন ৫৭ রান। ২২ রানে জীবনদান পাওয়া করুণারত্নে আউট হন ৮৬ রান করে। সুতরাং, বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ক্যাচ মিস করে রানের ডালি উপহার দেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের।

শ্রীলঙ্কা শেষমেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ১৫৯ ওভার ব্যাট করে ৫৩১ রানের বিশাল ইনিংস গড়ে তোলে। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা কামিন্দু মেন্ডিস ৯২ রানে নট-আউট থাকেন। সঙ্গীর অভাবে টানা তিনটি টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করা হয়নি তাঁর। কুশল মেন্ডিস করেন ৯৩ রান। দীনেশ চণ্ডীমল ৫৯ ও ধনঞ্জয়া ডি’সিলভা ৭০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন।

Sports