‘চা পাতায় রাসায়নিক…আগে বলতে পারল না!’

‘চা পাতায় রাসায়নিক…আগে বলতে পারল না!’

চা পর্ষদের নয়া নির্দেশে ফাঁপড়ে পড়েছেন মূলত ক্ষুদ্র চা বাগানের মালিকরা। নয়া নির্দেশে বলা হয়েছে চা চাষের সময় রাসায়নিক মেশানো হয়নি এনিয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে। তারপর চা পাতা নেওয়া হবে। মানে আগে সেই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট দিতে হবে। তারপর চা নেবে কারখানা। এতেই কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার চালসার হোটেলে মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে এনিয়ে দেখা করেন জিটিএ প্রধান অনীত থাপা। তারপরই মুখ্য়মন্ত্রী চা চাষিদের পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। 

মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়েছেন, আচমকা ভোট ঘোষণার পরে নির্দেশ জারি করে চা পাতা কেনা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। একদিকে বন্ধ চা বাগান খুলতে পারছে না। অন্যদিকে ভোট ঘোষণার পরে ছোট ছোট চা বাগানের মালিকদের অসহায় করে দিচ্ছে। ১০ লক্ষ মানুষ এই ছোট চা বাগান করে সংসার চালায়। ওই চা পাতায় নাকি রাসানিক সার দেওয়া আছে। তাহলে সেটা আগে বলাই উচিত ছিল। তাহলে তাঁরা অন্য পেশার কাজ করতেন। এতদিন পরে মনে পড়ল। ভোট মিটলে বিষয়টি আমি নিজে দেখব। 

তবে চা পর্ষদের নয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবিকই ভোটের মুখে কার্যত খাদের ধারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে প্রচুর চা শ্রমিককে। এদিকে এই চা শ্রমিকরাই কিন্তু মূলত কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভোটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক শক্তি। সেক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের তাতিয়ে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। 

তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে সাধারণ মানুষের স্বার্থ, আর অন্যদিকে চা চাষিদের স্বার্থ দুটোই দেখছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাসায়নিক মেশানো চা পাতা দিয়ে চা তৈরি করা হলে স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যহানি হতে পারে। সেকারণে এনিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার। আবার চা পাতা নিয়ে কড়াকড়ি করলে সমস্যায় পড়ে যাবেন অগণিত শ্রমিক। 

১ এপ্রিল থেকে নয়া নিয়ম কার্যকরী হয়েছে। তার জেরে উত্তরের মূলত ক্ষুদ্র চা বাগানে উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। আর চা শ্রমিকদের এই ক্ষোভকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে এসে বাজার গরম করতে কার্যত ময়দানে নেমে পড়েছে  ঘাসফুল শিবির। 

তবে ওই নির্দেশিকায় কী আছে? 

এবার চা কারখানা বলে দিয়েছে ১ এপ্রিল থেকে চা পাতা নিয়ে এলে নমুনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হবে। কারণ চা পাতায় রাসায়নিক কীটনাশক পাওয়া গেলে চা পর্ষদ কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় পুরো চা পাতা বাতিল ও কারখানার লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে। এরপরই রাতের ঘুম উড়েছে চা শিল্প ইউনিটগুলির। কারণ তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র চা বাগান থেকেও পাতা নেন। সেখানে কোনওরকম সমস্যা তৈরি হলে আখেরে ভুগতে হবে তাদের। কারণ কোথা থেকে পাতা নেওয়া হয়েছে তার তুলনায় কেন না দেখে এই পাতা প্রসেসিং করা হচ্ছে সেটা বলা হবে। সেকারণে আগাম সতর্ক হয়ে গিয়েছে চা শিল্পের কারখানাগুলি। সটান বলে দেওয়া হয়েছে আগে চা পাতার নমুনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। তারপর চা নেওয়া হবে।

Politics West Bengal