কনস্টেবল খুনে দোষী সাব্যস্ত কর্ণ বেরা! কোন কোন ধারায় সাজা ঘোষণা?


চাঁদনী,হলদিয়া : পুলিশ কনস্টেবল নবকুমার হাইত খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হল কর্ণ বেরা ও তাঁর সঙ্গী সেক রহিম। হলদিয়া মহকুমা আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট এন্ড সেশন জর্জ আশিষ কুমার দাস এই রায় দিয়েছেন।

হলদিয়া আদালতের সরকারী আইনজীবি সোমনাথ ভুঁইয়া জানিয়েছেন, কর্ণ বেরা ভারতীয় দন্ডবিধির ১৮৬/৩৪, ৩৫৩, ৩৩৩, ৩০২ এবং অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এই মামলায় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড অথবা সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে।

অন্যদিকে কর্ণর সঙ্গী সেক রহিম ভারতীয় দন্ডবিধির ১৮৬/৩৪ এবং এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেন্সের ৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বাধিক যাবজ্জীবন অথবা সর্বনিম্ন ১০ বছরের সাজা ঘোষণা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারী রাত্রি ১০টা নাগাদ মহিষাদলের ৪১নং জাতীয় সড়কের কাপাসএড়্যায় পুলিশ কনস্টেবল নবকুমার হাইতকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে পালায় কর্ণ বেরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নবকুমারের।

এই মামলায় পুলিশের পক্ষ্যে সব মিলিয়ে ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আসামী পক্ষ্যে সাক্ষী দিয়েছে ১ জন সাংবাদিক। যেখানে সমস্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যই কর্ণ ও তাঁর সঙ্গীর বিরুদ্ধে গিয়েছে।
যদিও গত ১৩ নভেম্বর এই মামলার শেষ আর্গুমেন্টের দিন কর্ণ’র পক্ষ্যের আইনজীবি তাঁকে নির্দোষ বলেই দাবী জানিয়েছিলেন। তবে পুলিশের পক্ষ্যে আদালতে পেশ করা প্রমাণপত্র ও সাক্ষীদের বয়ানে এই মামলায় কর্ণ ও তাঁর সঙ্গীকেই দোষী সাব্যস্ত করলেন বিচারক।

মহিষাদল থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন মহিষাদল থানার একটি টহলদারী গাড়ি রাতের দিকে কাপাসএড়্যা পেরিয়ে ৪১নং জাতীয় সড়কে যাচ্ছিল। সেই সময় কাঞ্চনপুর যাওয়ার রাস্তার সংযোগস্থলে অন্ধকার রাস্তায় দু’জনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।

তখনও পুলিশ বুঝতে পারেনি, ওই দুই যুবকের মধ্যে একজন কাঁথি আদালত থেকে পলাতক আসামী কর্ণ বেরা। ওই ঘটনার প্রায় ৬ মাস আগে ডাকাতির মামলায় গ্রেফতার কর্ণ কাঁথি আদালতের টয়লেটের জানালা গলে পালিয়ে এই কাঞ্চনপুরেই এসে গা ঢাকা দিয়েছিল।

পুলিশের গাড়িটি ওই দুই যুবকের কাছে এসে তাঁদের দাঁড়াতে বলে। সেই সময় কনস্টেবল নবকুমার হাইত (গাড়ির মাঝের সিটে দরজার পাশে বসেছিল) দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে ছুটে এসে কর্ণের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটিকে ধরে ফেলে। তখনই কর্ণ পকেট থেকে রিভলবার বের করে নবকুমারের কানের ঠিক ওপরে ঠেকিয়েই ট্রিগার টিপে দেয়।

ঘটনার আকস্মিকতা হতচকিত হয়ে যান গাড়িতে থাকা পুলিশ কর্মীরা। সেই সময় নিজের ব্যাগ থেকে হাতবোমা ছুড়ে মারে কর্ণ ও তাঁর সঙ্গী এবং তারপরেই দু’জনে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
Powered by Blogger.