বড়দিনে বোড়ো জঙ্গিদের নাশকতার ছক অসমে


বড়দিন এলেই উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের কিছু অংশের বাসিন্দারা ভয়ে থাকেন৷ বিশেষ করে অসমের শোনিতপুর ও কোকরাঝাড়বাসী৷ কারণ যে কোনও সময় নাশকতা ঘটাতে পারে বোড়ো জঙ্গিরা৷ সেই আশঙ্কা আরও উসকে দিয়েছে সম্প্রতি এনআরসি জারি হওয়ার পর৷ এতে বোড়ো জাতির অনেকের নাম কাটা পড়েছে৷ তারপরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বোড়ো সংগঠন এনডিএফবি(সংবিজিৎ) হুমকি দিয়েছিল প্রবল হামলার৷অসমের দ্বিতীয় প্রধান জঙ্গি সংগঠনটি হল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অফ বোড়োল্যান্ড (এনডিএফবি)৷ সংগঠনটির বর্তমান নেতা আইকে সংবিজিৎ৷ তার নেতৃত্বে চলছে বোড়োল্যান্ডের পক্ষে নাশকতা৷ হামলার আশঙ্কা বেড়ে গিয়েছে বড়সড় জঙ্গি দল ও প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়৷ গোপনে মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিল বোড়ো জঙ্গিদের একটি দল৷ প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র সমেত তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ ধৃতরা প্রত্যেকেই অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এনডিএফবি (সংবিজিৎ) সদস্য৷ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছেই তারা ধরা পড়তে উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জারি হয়েছে সতর্কতা৷
জানা গিয়েছে বোড়ো জঙ্গিরা ধরা পড়েছে অরুণাচল প্রদেশের জয়রামপুর শহর৷ এই শহরটি মায়ানমার সীমান্ত লাগোয় ভারতের ছাঙ্গলাং জেলায় পড়ে৷ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অসম রাইফেলস অভিযান চালায়৷ তখনই ধরা পড়ে জঙ্গিরা৷ জানা গিয়েছে, ধৃত ৯ বোড়ো জঙ্গি মায়ানমারের গোপন আস্তানায় জঙ্গি শিবিরে ছিল৷ সেখানেই তাদের নাশকতা ঘটানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷
অরুণাচল প্রদেশ থেকে অসমে ঢুকে তারা নাশকতা চালানোর চেষ্টা করা হবে, এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এনডিএফবি(সংবিজিৎ) সংগঠনের তরফে৷ এই বোড়ো সংগঠনটির দীর্ঘদিনের দাবি পৃথক বোড়োল্যান্ডের৷ সেই দাবিতে তারা সশস্ত্র পথ নিয়েছে৷ এর আগেও বোড়ো জঙ্গিদের নাশকতায় রক্তাক্ত হয়েছে অসমের শোনিতপুর-কোকরাঝাড়৷

অসম রাইফেলস জানিয়েছে, ধৃতদের কাছে মিলেছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর পরিমাণে কার্তুজ৷ তাদের জেরা করে পরবর্তী নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে৷
সম্প্রতি অসমে পরপর নাশকতা হয়েছে৷ দুর্গা পুজোর সময় গুয়াহাটির পানবাজারে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ তার দায় নেয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা(স্বাধীনতা)৷ তারপরে তিনসুকিয়ায় পাঁচ বাঙালিকে খুন করা হয়৷ তারপর শিবসাগর জেলায় গ্রেনেড হামলায় দুই অ-অসমীয়ার মৃত্যু হয়৷ এরপরেই উদালগুড়িতে ট্রেনে বিস্ফোরণ হয়৷ এতে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন৷ তবে এর কোনাটারই দায় নেয়নি আলফা৷ এই সংগঠনের সুপ্রিম নেতা পরেশ বড়ুয়া৷ তার ভাগ্নে সম্প্রতি জঙ্গি দলে যোগ দেওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, অসম থেকে কয়েকমাসে বেশকিছু যুবক যুবতী সরাসরি আলফা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে৷
এবার আশঙ্কা করা হচ্ছে আলফার পথ ধরেই এনডিএফবি নাশকতা ঘটাতে তৎপর হবে৷
Powered by Blogger.