খালের জল দিয়ে ধান চাষের উপর জোর দিন: সুব্রত মুখোপাধ্যায়




দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ একসময় মজে যাওয়া খাল ছিল এলাকার চাষিদের কাছে অভিশাপ। একবার চাষের পর সারা বছর পড়ে থাকতো জমি। আর সেই মজা খাল কে প্রায় দু বছর যাবৎ  পাঁচ কোটি টাকা ব্যায়ে  খনন করে এলাকায় চাষের নতুন দিশা দেখাচ্ছে রাজ্য সরকার।গ্রামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা এলাকার চাষীদের।

দক্ষিন ২৪ পরগনার ক্যানিং১ নং ব্লকের হাটপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলবেড়িয়া  এলাকায় যান পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক শ্যামল মন্ডল সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে উপস্থিত হন মন্ত্রি। সেখানে গিয়ে একেবারে খালপাড় ধরে সুব্রত বাবু চলে যান গ্রামের চাষীদের খামারে। সেখানে গিয়ে চাষীদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন। এলাকার নতুন খালপাড়ে সজিনা ও পেঁপের গাছ দেখে মন্ত্রী বলেন, খালের জল দিয়ে ধান চাষের উপর জোর দিন।পেঁপে গাছ বা সজিনা দিয়ে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব নয়। তার জন্য ধান, ডাল ও সূর্যমুখীর মত প্রকল্পের চাষ করতে হবে।খালের জল দিয়ে এই ভাবে চাষ আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গের  বিভিন্ন ব্লকে গড়ে তোলা হবে। এই কাজ  সারা জেলাতে করতে পারলে গ্রামের অর্থনৈতিক  অবস্থার উন্নয়ন হবে।

এলাকার মানুষের কাছে মন্ত্রী জানতে চান বিভিন্ন চাষ সর্ম্পকে। লঙ্কা পালং সহ বিভিন্ন সব্জির চাষ দেখেন তিনি।ধানের পরেই খেসারী ডাল চাষ কে এলাকায় চাষীরা যথেষ্ট গুরুত্বদিয়ে চাষ করেন তা হাতে নিয়েও দেখেন মন্ত্রী। এলাকায় দুটি খালের পাড়ে যান। সেখানে গিয়ে জাল টেনে মাছের ফলন দেখান মৎস্যচাষীরা। এই আদমি প্রকল্পের মধ্যেমে মাছ চাষ সব্জি চাষ সহ বিভিন্ন চাষ করা হয়। মন্ত্রীকে পেয়ে চাষীরা জানান বিভিন্ন এলাকার খাল শুকিয়ে যাচ্ছে।বর্ষার জলে চাষের কারনে এই সমস্যা।চাষীরা মন্ত্রী কে জানান ডায়মন্ডহারবার  নদী থেকে জল তুলে পিয়ালী নদী দিয়ে এই সব খাল গুলিতে জল ভরতে পারলে জলের অভাবে চাষ মার খাবে না। রুই কাতলার পরির্বতে চিংড়ি চাষের উপর গুরুত্ব দেওয়া জন্য মন্ত্রী। এবিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই এলাকার জল লবনাক্ত হয় আর লবনাক্ত জল হওয়ার কারনে চিংড়ির চাষ ভালো হবে। যা বিদেশে রপ্তানি করে বিদেশী মুদ্রা উপার্জন সম্ভব। যেমন ভাবে মেদিনীপুর বদলে গেছে তেমন ভাবে বদলে যাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা।   এ বিষয়ে বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল বলেন পুরো প্রকল্প রুপায়ন করেছে রাজ্যসরকার। বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে এই প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হয়। মাত্র পাঁঁচ মাসে এই কাজ শেষ করা হয়েছে। চাষীদের চাষের জল ব্যবহারের জন্য সৌরশক্তি কে কাজে লাগানো হচ্ছে।         

Powered by Blogger.