কাঁথি আদালত থেকে কিভাবে পালিয়েছিল মুন্না? পিছনে কারা ?



চাঁদনী,কাঁথিঃ গত ৩ অক্টোবর কাঁথি আদালত থেকে ফিল্মি কায়দায় পালিয়েছিল কর্ণ বেরা, সেক মুন্না, আর সুরজিৎ গুড়িয়া। কিছু পরেই কর্ণ গ্রেফতার হলেও মুন্না ও তাঁর সঙ্গীরা নিরাপদে পৌঁছে গিয়েছিল কলকাতায়।

কলকাতায় গিয়েই সুপারি কিলার হিসেবে সফল অপারেশান। তবে রাজারহাটের জমি জরিপকারীকে খুন করার পরেই পুলিশের জালে চলে আসে সেক মুন্না ও তাঁদের সঙ্গী সেক রফিক। তবে সুরজিৎ গুড়িয়া এখনও অধরা।

শুক্রবার কাঁথি আদালতে থেকে পালিয়ে যাওয়ার মামলায় মুন্না ও তাঁর সঙ্গী রফিককে ৭ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। কিন্তু প্রশ্ন জাগছে কে এই রফিক। গোটা ঘটনায় তাঁর কি ভূমিকা।
হলদিয়ার ভবানীপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সেক রফিকই ঘটনার দিন কাঁথি আদালতের মধ্যে কর্ণ ও মুন্নাদের বোমা ও বন্দুক সাপ্লাই করেছিল। এবং তাঁদের জেল থেকে পালাতে সাহাজ্য করেছিল। কিন্তু গোটা ঘটনায় অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তার জন্যই এদিন ধৃতদের ৭ দিনের সিআইডি হেফাজতে নেওয়া হল।
আদালত থেকে বেরিয়ে কিভাবে পালিয়েছিল ওই দুষ্কৃতীরা?
সূত্রের খবর, কর্ণ বেরা, মুন্না, সুরজিৎ গুড়িয়া ও রফিক সেদিন মোটর বাইক নিয়ে পালানোর সময় সবার পেছনে বসে ছিল কর্ণ। কিছুটা যাওয়ার পরেই গাড়ি বিগড়ে যাওয়ায় কর্ণ নেমে যায়।
তাঁকে ছেড়েই বাকি ৩ জন সোজা চলে যায় কাঁথির পদ্মপুকুরিয়ার একটি ঝোপের আড়ালে। রাত্রি পর্যন্ত সেখানেই গা ঢাকা দিয়ে থাকে তাঁরা। তারপর কিছুটা দূরে বাদলপুরে গিয়ে দিঘা গামী ট্রেনে চাপে তাঁরা।
দিঘা স্টেশন থেকে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে তাঁরা চলে যায় সোজা উড়িষ্যা। এরপর উড়িষ্যা থেকে বাস ধরে পরের দিন কলকাতায় গিয়ে নিশ্চিন্তে দিন কাটাতে শুরু করে তারা। এরপরেই একজনের খুনের সুপারি পেয়ে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দায়েই গ্রেফতার হল মুন্না ও রফিক।
কিন্তু বাকি ১জন সুরজিৎ এখন কোথায় তা এখনও পর্যন্ত খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। সূত্রের খবর এই মুহূর্তে পুলিশের কাছে একাধিক প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। প্রথমতঃ জেলে বসে কর্ণ, মুন্না, সুরজিৎরা কিভাবে ছক কষেছিল? তাঁদের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে বাইরে কোন নেটওয়ার্ক কাজ করল?

কিভাবেই বা রফিক সময় মতো বোমা ও বন্দুক নিয়ে হাজির হল? এই অস্ত্রগুলি সে পেল কোথা থেকে? তাঁদের পালানোর রুট কে তৈরি করে দিয়েছিল? পালানোর সময় যে মোটর বাইকটি ব্যবহৃত হয়েছিল সেটা এখন কোথায়? বাইরে আর কোন কোন ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত?

কলকাতায় গিয়েই বা তাঁরা কিভাবে কন্ট্রাক্ট কিলারের কাজ জুটিয়ে নিল? আর এক পলাতক সুরজিৎ গুড়িয়া এখন কোথায়? এমন হাজারও প্রশ্ন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশের অন্দরে। আগামী ৭ দিন এই অভিযুক্তদের জেরা করে এমনই সব প্রশ্নের উত্তর পুলিশ খুঁজবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে ধৃতদের টিআই প্যারেডে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। যে ব্যক্তির বাইক চুরি করে অভিযুক্তরা পালিয়েছিল তাঁকে দিয়ে অভিযুক্তদের সনাক্তকরণ হতে পারে বলে জানা গেছে l
Powered by Blogger.