নলেন গুড় থেকে জয়নগরের মোয়া তৈরি!ব্যস্ততা তুঙ্গে ব্যবসায়ীদের




মৃন্ময় নস্করঃ ভেজাল নলেন গুড়ের মোয়ায় জয়নগরের বহড়ুর মোয়া ব্যাবসায় মন্দা ,অসাধু ব্যাবসায়িদের কারবারে আসল জিরান কাঠের গুড়ের মোয়া অধরা।
ইতিমধ্যেই জাকিয়ে শীত পড়তে শুরু করছে ,আর শীতের সাথে জয়নগরের বহড়ুর মোয়া যেন সমার্থক । কিন্তু এখনও জমে ওঠেনি দক্ষিন ২৪ পরগণার জয়নগর ও বহরুর মোয়া বাজার তার মধ্যেই নকল নলেন গুড়ের মোয়ায় বাজারে ছেয়ে গিয়েছে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীদের রমরমায়। কার্যত মন্দা শিউলিদের গুড়ের চাহিদায় । জয়নগরের বহড়ুর নলেন গুড় নয় জেলার বাইরে থেকে হলদিয়া ,মেদিনীপুর থেকে আসছে নকল নলেন গুড় আর সেই গুড় হচ্ছে চিনি আর রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি তারপর তা দিয়েই প্রথম বাজার ধরতে তৈরি হচ্ছে মোয়া ।শিতের অভাবে জিরান কাঠের গুড় তৈরি করতে পারেনি জয়নগরের বিভিন্ন এলাকায় শিউলিরা, আর তার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যাবসায়ীরা নকল নলেন গুড় দিয়ে তৈরি করছে মোয়া এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের মোয়া প্রস্তুতকারকদের । নলেন গুড় সম্পর্কে এক তথ্য মেলে বাঁশের কঞ্চি নল গাছের নলি কেটে বার হয় রস ,সেই নল দিয়ে রস আসে মাটির ভাঁড়ে , সেই রস দিয়ে তৈরি হয় গুড় আর নল দিয়ে আসে বলে তাকে বলে নলেনগুড় । কার্ত্তিক মাসের মাঝামাঝি খেজুর গাছ কাটা হয় তার পর ১৪ দিন ধরে শুকোতে হয় ,শিউলিরা ১৪ দিন ধরে পরিশ্রম করে এই কাজ করে তার পরেই আসে আসল জিরান কাঠের গুড় ,যা সুস্বাদু এই জিরান কাটের গুড়, কনকচূড় ধানের খই, কাজু, পেসতা ও উৎকৃষ্ট মানের দামী ব্র্যান্ডের শ্রী ঘি ছাড়া ভালো মোয়া হয় না । জয়নগর ,বহরুর শিউলিরা জানান ,খেজুর গাছের পরিমান কমে গিয়েছে ,খেজুর গাছ আর কেউ বসাতে চায় না ,খেজুর গাছ বাড়ানোর ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না তার জেরে গুড় হচ্ছে না ,শিউলির সংখ্যা ও কমে গিয়েছে,নতুন করে কেউ আর এই শিউলি কাজে যুক্ত হতে চাইছে না । খেজুর গাছ বাড়ানো হলে ভালো ব্যাবসা হবে । জয়নগর বহরুর স্টেশন থেকে বাজারে এগোলেই এক সারি দিয়ে মোয়ার দোকান , আর সেই বাজারেই এখন ভেজাল গুড় বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি কেজি যেখানে আসল জিরান কাটের নলেন গুড়ের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি । নকল নলেন গুড়ের ব্যাবসা বন্ধ করুক প্রশাসন এমনই চায় বহরু ও জয়নগরের মোয়া প্রস্তুতকারকরা , শীতে বাঙালির পাতে জিরান কাঠের আসল নলেন গুড়ের মোয়া তবেই তারা যে তুলে দিতে পারবে ।
Powered by Blogger.