জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ভারতের

[pullquote align="normal"] [/pullquote]

দুরন্ত জয় দিয়ে আইসিসি নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ভারতের মেয়েরা। শুক্রবার গায়ানায় উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩৪ রানে হারিয়েছে হরমনপ্রীতরা।
ম্যাচের নায়ক স্বয়ং অধিনায়িকা হরমনপ্রীত। প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটের ক্রিকেটে এদিন শতরান করলেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের তৃতীয় মহিলা ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিন অঙ্কের স্কোর করলেন ভারত অধিনায়িকা। তার ৫১ বলে ১০৩ রানের ইনিংসই এদিন দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। ৪৫ বলে ৫৯ রান করে তাঁকে যোগ্য সহযোগীতা করেন জেমাইমা রডরিগেজ।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়িকা হরমনপ্রীত কর। দুই ওপেনার স্মৃতি মন্ধনা এবং তানিয়া ভাটিয়া স্কোরবোর্ডে তেমন রান না তুলেই ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। মাত্র ২২ রানে দুই উইকেট খুঁইয়ে বসে ভারত। এরপর ৭ বলে ১৫ রানের যোগদান রেখে সাঝঘরে ফেরেন দয়ালান হেমলতাও। ৪০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় উইমেন ইন ব্লু। সেখান থেকেই চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক হরমনপ্রীত এবং জেমাইমার পার্টনারশিপে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।
সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটের ইতিহাসে এদিন ভারতের হয়ে একমাত্র শতরানের অধিকারিনী হলেন হরমনপ্রীত। জেমাইমাকে সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে তার ১৩৪ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যায় বড় রানের দিকে। গায়ানার সবুজ গালিচায় কিউয়ি বোলারদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেন ভারত অধিনায়িকা। ৩৩ বলে প্রথম পঞ্চাশ রান পূর্ণ করার পর দ্বিতীয় পঞ্চাশ পূর্ণ করতে হরমনপ্রীত নেন মাত্র ১৬ বল। তার বিধ্বসী ইনিংস স্মরণ করিয়ে দেয় ১৪ মাস আগে বিশ্বকাপে অজিদের বিরুদ্ধে তার ১৭১ রানের ইনিংসকে।
মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম শতরান হাঁকিয়ে ভারত অধিনায়িকা যখন ফিরছেন তখন ৭টি চার ও ৮টি ছয় সহযোগে তাঁর নামের পাশে লেখা ৫১ বলে ১০৩ রান।
পাশাপাশি ৪৫ বলে ৫৯ রানের সময়োপযোগী ইনিংস খেলে ভারতীয় ইনিংসকে এদিন এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন জেমাইমা রডরিগেজ। মূলত এই দুই ব্যাটসম্যানের দৌলতেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯৪ রানের বিরাট স্কোর খাঁড়া করে টিম ইন্ডিয়া।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করেন দুই কিউয়ি ওপেনার। কিন্তু ৬.৩ ওভারে প্রথম উইকেটের পতন হতেই ধস নামে নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং লাইন আপে। ১১০ রানে বিপক্ষের ছয় উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় কার্যত নিশ্চিত করে দেন বোলাররা।
ভারতীয় বোলিং বিভাগকে ভরসা দেন স্পিনাররা। তিনটি করে উইকেট তুলে নেন দয়ালান হেমলতা ও পুনম যাদব। দুটি উইকেট নেন রাধা যাদব এবং একটি উইকেট নেন অরুন্ধতী রেড্ডি। শেষমেষ ভারতীয় বোলারদের দাপটে ২০ ওভারে আট উইকেটে ১৬০ রানেই থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ফলে দুরন্ত জয় দিয়েই শুরু হয় ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান।
ম্যাচ জয়ের পর হরমনপ্রীত জানান, প্রতিযোগীতা সবে শুরু। আমরা সামনের দিকে তাকাতে চাই। প্রতি বিভাগেই এখনও উন্নতির প্রয়োজন আছে। সেগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই মেরামত করব আমরা।
২০০৯ এবং ২০১০ বিশ্বকাপে শেষ চারে পৌঁছলেও তারপর থেকে গ্রুপ লিগ আর পেরনো হয়ে ওঠেনি। তাই ষষ্ঠ সংস্করণের প্রথম ম্যাচে এই জয় টুর্নামেন্টে আগামিদিনে যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.