বৈশাখী ঝড়ে শোভনের জীবন তছনছ! স্বীকার স্বয়ং বৈশাখী


সাংবাদিকদের কাছে বৈশাখী চট্টোপাধ্যায়ের একটা প্রশ্নে আটকে গেলেন৷ কেন পদ ছাড়তে হল শোভন চট্টোপাধ্যায়কে? প্রশ্ন শুনে খানিকক্ষণ থমকালেন৷ টিভির সামনে বসে থাকা অপেক্ষারত দর্শককে অবাক করে দিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন বৈশাখী৷ শোভনের এই অবস্থার জন্য নিজেকে দায়ী করলেন তিনি৷ জানান, তাঁর জন্য তছনছ হয়ে গিয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন৷ বাবা মা শখ করে মেয়ের নাম রেখেছিল বৈশাখী৷ সেই বৈশাখী নাম এখন তাঁর না পছন্দ৷ কারণ এই ‘কাল’বৈশাখী ঝড়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছে৷ সংবাদমাধ্যমে এমনটা শুনতে শুনতে তিনি ক্লান্ত৷ তাই তাঁর অনুযোগ, এখন মনে হয় বাবা মা কেন বৈশাখী নাম রেখেছিল?

(আরও পড়ুনঃ দেখুন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মেয়র পদে ববি-অতীন) 

চলতি সপ্তাহে দমকল ও আবাসন দফতরের মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দেন৷ শোভনের এহেন ‘পতনের’ জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী চট্টোপাধ্যায়কে দায়ী করেন স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ এমনকী তাঁর সঙ্গে শোভনের সাংসারিক অশান্তির জন্য বৈশাখীকেই কাঠগড়ায় তোলেন তিনি৷ এত কিছুর পরেও চুপ ছিলেন বৈশাখী৷ কিন্তু বৃহস্পতিবার নীরবতা ভাঙেন তিনি৷ একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের কাছে সাক্ষাতাকারে রত্নার ইটের জবাবে পাটকেল ছুঁড়ে মারেন তিনি৷

(আরও পড়ুনঃ ভালোবাসাই কি মেয়র পদ ছাড়ার আসল কারণ শোভনের?)

সাংবাদিকের একের পর একের প্রশ্নের মুখের মতো জবাব দেন তিনি৷ রত্নার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ বলেন, ‘‘এগুলি অসুস্থ মানসিকতার লক্ষ্মণ৷’’ আগের দিন সংবাদমাধ্যমের কাছে রত্না অভিযোগ করেছিলেন তাঁর ও শোভনের সাংসারিক জীবনে অশান্তি ও সেখান থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করার জন্য বৈশাখী দায়ী৷ তারও জবাব দেন বৈশাখী৷ বলেন, ‘‘তাই যদি হবে তাহলে বিবাহ বিচ্ছেদের পিটিশনে স্বামীকে দেবতুল্য বলেছে কেন? আসলে টিভির ক্যামেরার সামনে মিথ্যা বলছেন৷ একজন মহিলার চরিত্র হরণ করছেন৷’’

রত্নার সংসার ভাঙার জন্য তাঁকেই দায়ী করেন বৈশাখী৷ শোভনের সুরে সুর মিলিয়ে তিনিও জানান, অভিজিৎ নামে একজনের সঙ্গে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রত্না৷ সাত বছর ধরে চলছিল সেই সম্পর্ক৷ সেই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে যান শোভন৷ রত্নার ধারণা শোভনকে সেই সম্পর্কের কথা জানান বৈশাখী৷ সেই থেকে তাঁর উপর এত রাগ রত্নার৷
Powered by Blogger.