আদালতের রায়ে খুশি রাজ্য সরকার!কেন?

                                                         ছবিঃ বিভাস লোধ

আদালতের রায়ে খুশি রাজ্যে সরকার ৷ ৩রা জানুয়ারি নির্দিষ্ট সূচি মেনেই হবে কলকাতা পুর নিগমের মেয়র পদে নির্বাচন৷ ভোটের মাধ্যমেই স্থির হবে কে মেয়র পদে বসবেন৷ জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ইস্তফার পর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে পুরনিগমের মেয়র পদের প্রার্থী করেছে তৃণমূল৷ কিন্তু তিনি কলকাতা পুরনিগমের সদস্য নয়৷ বহিরাগত সদস্যকে মেয়র পদে নির্বাচিত করার কোনও নিয়ম নেই৷ কিন্তু মন্ত্রীকে মেয়র পদে বসাতে পুর আইনে বদল আনে তৃণমূল৷ বিধানসভায় পাস হয় পুর আইন সংশোধনী বিল৷ এর ফলে আগামী ছয়'মাসের মধ্যে বহিরাগদের নির্বাচিত হতে হবে পুরপিতা হিসাবে৷পুর আইনের এই বদলকে বেআইনী বলে দাবি করে বিরোধী সিপিএম৷ পুর আইন সংশোধনী বিলকে অসাংবিধানিক বলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন কলকাতা পুরনিগমের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর বিলকিশ বেগম৷ এদিন হাইকোর্টে ছিল সেই মামলারই শুনানি৷ প্রাথমিক পর্বে মেয়র নির্বাচনের দ্রুততা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পরে তাতে কোনও স্থগিতাদেশ দিল না আদলত ৷
অত্যন্ত কম সময়ে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র নির্বাচন পক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক৷ মেয়র নির্বাচনের জন্য পুর আইনে এক মাসের সময়সীমা থাকলেও কেন এত দ্রুততা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি৷ পুর আইন সংশোধনী বিল সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, অতি তাড়াহুড়োর কারণে মামলায় হলফনামা জমা ও বিনিময়ের কোনও সুযোগ নেই৷
শুনানির প্রথমেই মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, ‘‘সংবিধান অনুযাই লোকসভা বা বিধানসভায় বহিরাগতরা মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব নিলেও তাকে বা তাদের আগামী চয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়৷ কিন্তু ২৪৩(আর) ধারা মেনে ১৯৮০ সালে যে পুর আইন তৈরি হয়েছে তাতে এই ধরণের কোনও সংস্থান নেই৷ এখানে পুর প্রতিনিধিরাও মেয়র বা পুর প্রধান নির্বাচন করেন৷ কিন্তু রাজ্য সরকার সেই আইনে বদল এনেছে সংশোধনী বিলের মাধ্যমে৷ যা বেআইনী৷’’পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ‘‘আইন বিরুদ্ধ কোনও কিছুই করা হচ্ছে না৷’’ শুনানির প্রথম পর্বে উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে বিচারপতি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পুর আইনে এক মাসের সময়সীমা থাকলেও কেন এত দ্রুততা মেয়র নির্বাচন?’
মামলার প্রথম পর্বের শুনানি শেষে আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখে মনে করা হয়েছিল পিছিয়ে যেতে পারে মেয়র নির্বাচন পক্রিয়া৷ কিন্তু রাজ্যের পক্ষেই এদিন রায় দেয় আদালত৷ এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ই ডিসেম্বর৷ যদিও আগামী সাত দিনের মধ্যে রাজ্য ও কলকাতা পুর নিগমকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
Powered by Blogger.