প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেদারে চলছে বাজির শব্দদূষণ

[pullquote align="normal"] [/pullquote]

নজরদারির বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালিপুজোর রাতে দেদার ফাটানোর হল শব্দ বাজি ৷ উত্তর থেকে দক্ষিন, পূর্ব থেকে পশ্চিম সর্বত্রই কোনও এলাকাই বাদ পরলো না এই বাজির তাণ্ডব থেকে৷ কোনও সতর্কতা বা নিয়মের তোয়াক্কাই করল না রাজ্যবাশী তথা শহরবাসী ৷ বাঁশদ্রোণী থেকে শুরু করে বেলেঘাটা, বালিগজ থেকে টালিগঞ্জ, শ্যামবাজার থেকে বাগবাজার সব জায়গাতেই বাজি প্রেমীদের দৌরত্বে নাঝেহাল সাধারন মানুষ ৷ কালি পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পুলিশ কর্তারা বেআইনি বাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ছিলেন৷ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল নিষিদ্ধ বাজি৷ বাজি নিয়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, দীপাবলিতে রাত আটটা থেকে দশটা পর্যন্ত পোড়ানো যাবে আতসবাজি৷ সেই সঙ্গে অনলাইনে আতসবাজি বিক্রিও নিষিদ্ধ হয়৷

এই নির্দেশ শুধুমাত্র দীপাবলি উপলক্ষ্যে নয়৷ যেকোনও ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম বহাল থাকবে৷ রায় শীর্ষ আদালতের ৷ অন্যদিকে ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ারের ক্ষেত্রে আতসবাজি পোড়ানোর সময়সীমা রাখা হয়েছে রাত ১১:৪৫ থেকে ১২:৪৫ পর্যন্ত৷ অর্থাৎ এক ঘণ্টা আতসবাজি পোড়ানো যাবে৷কালীপুজোর আগে থেকেই শহরের বিভন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় বাজি৷ গ্রেফতারও করা হয় একাধিক ব্যাক্তিকে৷ নজরদারিও ছিল যথেষ্ট৷ তবে সাধারন মানুষ সতেন না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন ঠিক তাই হল৷ শহরকে সচেতন করতে বেশ কিছু অভিনব পদক্ষেপও করেছিল পুলিশ কর্তারা৷ কলকাতার এক বাসিন্দা জানান,‘‘আমাদের বাড়িতে বয়স্করা থাকেন৷ বাজির আওয়াজে তাদেরকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে ৷

শহরবাসীদের অভিযোগ কিছু জায়গায় মাঝরাত পর্যন্ত বাজির তাণ্ডব ছিল৷ লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘আমরা জোড়কদমে নজরদারি চালিয়েছি৷ যেখান থেকে অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে সেখানেই পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি৷ শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে৷ তবে আগের তুলনায় এবছর আমাদের কাছে কম অভিযোগ এসেছে৷ গত বছরের তুলনায় গ্রেফতারের সংখ্যাও কমেছে৷ ২০১৮ সালে কালিপুজোর রাতে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১২১৷ তার মধ্যে বেআইনি ভাবে বাজি ফাটানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ১২১ জনকে৷  ২০১৭ সালে তাড়স্বরে মাইক বাজিয়ে ধৃতের সংখ্যা ৯ সহ বেআইনি ভাবে বাজি ফাটানোয় মোট গ্রেফতার ১৮৭।

তবে অন্যদিকে শহরবাসিরা জানাচ্ছে পুলিশের সতর্কতা বা অভিযানের পরেও বাজি তাণ্ডব জোড় কদমে চালিয়েছে এক শ্রনীর মানুষ৷ নিজেরা যতদিন না সতর্ক হবেন ততদিন কোনও নিয়ম কার্যকারি করা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন সাধারন মানুষ৷
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.