অমিত শাহের রাজনৈতিক গুঁটি সাজাতে নেমেছে বিজেপি দুধে গোয়েন্দারা

[pullquote align="normal"] [/pullquote]

লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় সাফল্যের অঙ্ক মেলাতে অনেক আগে থেকেই খাতা-কলম নিয়ে ১১, নম্বর অশোক রোডে নেমে পড়েছে বিজেপি দুধে গোয়েন্দারা। বাংলায় অমিত শাহের ২২ টি থেকে ২৬টা আসন পাওয়ার অঙ্গীকার কতটা বাস্তব তা বুঝে নিতে তৃণমূল স্তরের সংগঠনকে জোরদার করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে বিজেপি ৷ তবে বাংলায় ভোটের অঙ্ক বেশ জটিল, তা বুঝতে পেরেছেন গেরুয়া শিবিরের ভোট ম্যানেজাররা৷ ২০১৪ সালের গো-বলয়ে ১৯০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জিতে কংগ্রেসের যাবতীয় স্বপ্ন উত্তর ভারতেই শেষ করে দিয়েছিল বিজেপি৷ কিন্তু ২০১৯ সালে দেশে অন্য হাওয়া বইছে, তা রাজনীতিতে পোড়খাওয়া অমিত শাহের বুঝতে দেরি হয়নি৷ যেখানেই বিজেপি ক্ষমতা রয়েছে, দিন দিন যে জনপ্রিয়তা কমছে, তা গুজরাটের নির্বাচন প্রমাণ করেছে৷ রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশে বিজেপি ফের ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে বিজেপির অনেক নেতাই আত্মবিশ্বাসী নন৷

এই পরিস্থিতিতে পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকেই পাখির চোখ করেছে বিজেপি৷ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বিজেপির অবস্থান উল্লেখযোগ্য হলেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দল সবে প্রাধান্য পেতে শুরু করেছে৷ এই পরিস্থিতিতে ২২-২৬টি আসনের টার্গেট অনেক নেতারই খুব শক্ত বলে মনে হয়েছে৷ দলের ভোট ম্যানেজাররা ইতিমধ্যেই হিসেব কষেছেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বামফ্রন্ট ১৫ শতাংশ ভোট ভোট পেয়েছে৷লোকসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ফলাফল খুব ভালো হলেও তা ১৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে না৷ রাজ্যে কংগ্রেসের নিশ্চিত ভোট রয়েছে ৮-১০ শতাংশ৷ উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে যা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে৷ তৃণমূল কংগ্রেস শেষ লোকসভা নির্বাচনে ২৮-৩০ শতাংশ মুসলমান ভোট পেয়েছিল৷ এছাড়া ১৫ শতাংশ সাধারণ ভোট যোগ করতে হবে৷

নির্বাচনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস চালিয়ে জনগনকে আতঙ্কিত করতে পারে শাসক দল তাও মনে করছে বিজেপি৷ অন্যান্যরা সবাই মিলে যদি ২ শতাংশ ভোট পায়, তবে বিজেপি কোনও মতেই ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে পারবে না৷ সেক্ষেত্রে ২২টি আসন পাওয়া স্বপ্নই থেকে যাবে গেরুয়া শিবিরের জন্য৷
পার্টির অন্দরের খবর, ১১, নম্বর অশোক রোডের ভোট ম্যানেজাররা দুটি পথ খুঁজে রেখেছেন রাজ্যের জন্য৷ (১) যেকোন প্রকারে বামফ্রন্টের ভোট কমাতেই হবে৷ বামফ্রন্ট ১৮ শতাংশ ভোট পেলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে৷ বামফ্রন্টকে টেনে ৭-৮ শতাংশে নামাতেই হবে৷ নয়তো বামফ্রন্টই সুবিধা করে দেবে তৃণমূলকে৷ সিপিএমকে সেভাবে ভাঙতে না পারলেও জেলায় বেশ কিছু শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে৷ বিজেপি৷ মূল দায়িত্বে মুকুল রায়৷) বিজেপিকে অনেক বেশি মুসলমান ভোট পেতে হবে৷ তৃণমূল একচেটিয়া মুসলমান ভোট পাবে, তা কোনও মতেই হতে দিতে চায়না কেন্দ্রের শাসকদল৷ তৃণমূলের মুসলমান ভোটব্যাংঙ্কে ইতিমধ্যেই হাত দিতে শুরু করেছে বিজেপি৷

শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তা কিছুটা হলেও বোঝা গিয়েছে৷ মুসলমানদের দলে টানতে ইতিমধ্যেই তলায়-তলায় রাজ্যের মৌলানা, মৌলবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে গেরুয়া শিবির৷ মুসলমান বুদ্ধিজীবীদের দলের নীতি বোঝানোর কাজ চলছে৷ রাজ্যে ভোটের একটি বড় ফ্যাক্টর মতুয়া সম্প্রদায়৷ মতুদের সংখ্যাধিক্য কাদের সঙ্গে আছে, তা নিয়ে শাসক-বিজেপি তরজা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে৷

এই প্রসঙ্গেই যথেষ্ঠ প্রসঙ্গিক হয়ে উঠেছে জাতীয় পঞ্জীকরণ বা এনআরসি৷ এনআরসি বাংলায় কেন হওয়া উচিত, নাগরিকত্ব আইনে একমাত্র বাংলাদেশি মুসলমানদেরই ফেরত পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হবে, তা ভারতীয় মুসলমানদের জন্য নয়, তা বোঝানোর কাজ শুরু হয়েছে৷ মোদী সরকারের তিন তালাক বিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে মুসলমান মহিলাদের ভোট চাইতে শুরু করেছে বিজেপি নেতারা৷
রাজ্য বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার প্রশিক্ষণ শিবিরে স্থির হয়েছে ১০-১৫ শতাংশ মুসলমান ভোট এরাজ্য থেকে পেতেই হবে৷ নয়তো ২২/২৬ এর অঙ্ক থেকে পিছিয়ে আসতে হবে৷ মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, ২ বা আড়াই হাজার টাকা ইমাম ভাতা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমান সমাজের কী উন্নতি করতে পারলেন? লোকসভার মুখে বাংলায় বিজেপির রথযাত্রাও সমান গুরুত্বপূর্ণ৷ রথযাত্রার মাধ্যমে জনমানসে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি৷ হাইপ্রোফাইল নেতারা রথযাত্রায় ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র ঘুরে জনতার সঙ্গে কথা বলবেন৷ পার্টি সূত্রে খবর, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে ৪২টি নির্বাচনী অফিস তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন৷
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.