আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের

[pullquote align="normal"] [/pullquote]


সাইফুল আলম, ঢাকা, বাংলাদেশ:
দ্বিতীয় দফা সংলাপে সমাধান হয়নি, আন্দোলনে যাবে ঐক্যফ্রেন্টের নেতারা

দ্বিতীয় দফা সংলাপে সাত দফার প্রধান দাবিগুলোতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাড়া না পেয়ে এখন আন্দোলন জোরদার করার কথা বলছেন কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ থেকে ফিরে কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সাত দফা আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনে আছি। কাল পদযাত্রা হবে। পরশু রাজশাহীতে সমাবেশ।”

তিনি বলেন, “আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে, তাদের সঙ্গে নিয়েই দাবি আদায় করা হবে।”

তবে পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ঐক্যফ্রন্টের রোড মার্চ কর্মসূচি স্থগিতের কথা জানান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে জনসভা হলেও পদযাত্রা হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের ফলাফল জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, একটি অর্থবহ নির্বাচনের আশা নিয়েই তারা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংলাপে গিয়েছিলেন।

কামাল হোসেন বলেন, আমরা তো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি, করছি, করে যাবৃ দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সব কিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের। বল এখন সরকারের কোর্টে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে গত ১ নভেম্বর সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে সাত দফা দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় বুধবার ‘সীমিত’ পরিসরে দ্বিতীয় দফার এই সংলাপে বসেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টার এই সংলাপে দুই পক্ষেই ১১ জন করে অংশ নেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু সংলাপ শেষে বেরিয়ে এসে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আলোচনা মনঃপূত হয়নি। সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি।”

আর আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, “দুই পক্ষই নিজেদের দাবিতে অনড়। কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ঐক্যফ্রন্ট আবারও সংলাপের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন দুই দফা সংলাপে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আজকের সংলাপে আমরা আমাদের সাত দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি। আমরা বলেছি যে অল্প পরিসরে আরও আলোচনার করার ব্যাপারে ইচ্ছুক।”

তিনি বলেন, সারাদেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যেসব ‘মিথ্যা ও গায়েবী’ মামলা করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ‘গায়েবী ও হয়রানিমূলক’ মামলা বা গ্রেপ্তার করা হবে না প্রধানমন্ত্রী সংলাপে আশ্বাস দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “৭ দফার প্রথম দফাটাই ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে অবশ্যই আলোচনা হয়েছে। আমরা জোর দিয়ে বলেছি, তিনি তো আইনগতভাবে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য, জামিন পাওয়ার যোগ্য।”

সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের অনুমতি, সত্যিকারের রাজনৈতিক মামলা থাকলে তা প্রত্যাহারের মত কয়েকটি বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নির্বাচন পিছিয়ে সংসদের মেয়াদপূর্তির পরের ৯০ দিনে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আদলে ভোট করার দাবি তুলেছেন জানিয়ে কাদের বলেন, সংবিধানের বাইরের কোনো প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

কাদের বলেন, “এটা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা বাহানা। এই পিছিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁক ফোকর হয়ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ওয়ান ইলেভেনের মত সেই অনভিপ্রেত অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা বলার অর্থই হলো জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের দাবির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই বলে এমন কথা তারা বলছেন। আজকে নির্বাচন পেছানোর কথা আমরা বলছি নির্বাচনকে শুধুমাত্র অর্থবহ করার জন্য।“

বৃহস্পতিবার একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে ফ্রন্টের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “কালকে যদি তফসিল ঘোষণা করে, আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করব। আমরা তো আন্দোলনেই আছি।”

সরকার যদি সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার পথে না আসে, তার দায়-দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমরা বলেছিলাম যে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিন পরই তো নির্বাচন হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়াটা সংবিধানের অন্তর্গত এবং এখনই এটি সংবিধানে আছে।

“একই সাথে দুটো সংসদ থাকবে- এটা তো কোনো নিয়ম হতে পারে না। উনারা যদি বলেন এটা নেই, তাহলে উনারা ভুল বলেছেন। এটি সংবিধানের মধ্যে আছে, সাংবিধানিকভাবেই আমরা প্রস্তাব করেছি। এর মানে নির্বাচন আমরা পেছাতে চাইছি এমনটা নয়।”

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সরকার এ অবস্থানে অনড় তাহলে ঐক্যফ্রন্ট কী করবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব করেছি। তারা (সরকার) বলেছেন যে আলোচনা হতে পারে।”

এই অবস্থায় কী আশা করছেন- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এখানে আশার কোনো প্রশ্ন নেই। আমরা একটি নির্বাচনকালীন সরকার চাচ্ছি জনগণের দাবি হিসেবে। এটা সরকার যদি না মানে, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তা আদায় করব।”

দুই দফা সংলাপে কী পেলেন- এ প্রশ্নে ফখরুল বলেন, “পাওয়ার ব্যাপারটা রিলেটিভ ব্যাপার। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গেছি। তারা বলেছে যে ভবিষ্যতে তারা আলোচনা করে দেখতে পারে, সুযোগ আছে।”

সংলাপে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু; বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ; জেএসডির আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোটের প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আনিসুল হক, দীপু মনি ও শ ম রেজাউল করিম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.