‌বাস্তুতন্ত্র রক্ষা নিয়ে হলদিয়ায় দ্য বেঙ্গল চেম্বারের বিশেষ সেমিনার


চাঁদনী,হলদিয়া: কোনও এলাকায় শিল্প গড়ে উঠলে সেখানে পরিবেশে প্রভাব পড়ে। এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে কোন পথে চললে পরিবেশের কম ক্ষতি হবে, সে নিয়ে আলোচনা চলছে দুনিয়াজুড়ে। উঠে আসছে বিভিন্ন মতামত। এ বিষয়ে আরও এগিয়ে যেতে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সহযোগিতায় যৌথভাবে এক আলোচনাসভার আয়োজন করল দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। ৩০ নভেম্বর শুক্রবার হলদিয়ার গোল্ডেন রিট্রিট–আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এই বণিকসভা গত বছর ২৬ জুলাই একই ধরনের একটি সভার আয়োজন করেছিল, হলদিয়াতেই। দুর্গাপুর–আসানসোল শিল্পাঞ্চলের কথা মাথায় রেখে তারা ২০১৭ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি এবং চলতি বছরের ৩১ জুলাই দুর্গাপুরে একই রকমের সভার আয়োজন করেছিল।

পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শক্তি যোগাতে এই বণিকসভা গত কয়েক বছর ধরে একটি মঞ্চ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। তারা আরও জোর দিয়েছে সুসংহত উন্নয়নের ওপর। এই ব্যাপারে শিল্পোদ্যোগী, মানুষ— সবাইকে আরও সচেতন করার কাজ করে চলেছে। শিল্প স্থাপনের সময় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় কেন জোর দেওয়া দরকার, তা বিভিন্ন তথ্যের সাহায্যে সমাজের সব অংশের মানুষকে জানানো হচ্ছে। তাঁদের আরও সচেতন করা হচ্ছে।

বেঙ্গল চেম্বারের মতে, শিল্প গড়তে এবং শিল্পাঞ্চলে পরিবেশ রক্ষা, পরিবেশের ওপর তারা প্রভাব, আরও সবুজের বৃদ্ধি এখনকার সবচেয়ে জরুরি আলোচনার বিষয়।
হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের অংশীদার, নীতি নির্ধারক এবং শিল্পোদ্যোগীদের এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। রাজ্যে শিল্প গড়ার পাশাপাশি কী ভাবে পরিবেশও রক্ষা করা যায়, সে ব্যাপারে নানা দিক উঠে আসে। এই ব্যাপারে অত্যাধুনিক কী ব্যবস্থা চালু রয়েছে সে নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিল্পের প্রসারে যাতে পরিবেশের কোনও ক্ষতি না হয় তার সুলুকসন্ধান পাওয়ার চেষ্টা হবে।

“বণিকসভা মনে করে প্রতি বছর এই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া দরকার। তা হলে যে বিষয় নিয়ে কাজ করছি, তার সাফল্য ধরে রাখতে অংশীদারদের সহজেই যুক্ত করা যাবে। বায়ু দূষণ, পুর অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তেল থেকে ছড়ানো দূষণ, পরিবেশ নিয়ে আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানে মঞ্চ গুরুত্ব দেবে।”, দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম স্টেফানোস একথা জানালেন।
দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হয়েছিল ১৮৫৩ সালে। তারও ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি তৈরির সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। প্রতিষ্ঠাতারা এক জোট হন। দেশের মধ্যে প্রথম বণিক সংগঠন গড়ে তোলার কাজে লেগে পড়েন। পরে যা পরিচিত হয় বেঙ্গল চেম্বার নামে। গত দেড় শতাব্দী ধরে প্রতিষ্ঠান কাজ করে চলেছে। দেশে শিল্প এবং বাণিজ্যের প্রচার এবং প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ফারমার প্রেসিডেন্ট অলোক মুখার্জী জানান, রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠা কলকারখানা থেকে পরিবেশ দূষন হয়ে চলেছে। পরিবেশ দূষন মুক্ত করার জন্য আমরা শিল্পাঞ্চলগুলোতে সচেতনতার জন্য আলোচনা সভার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম স্টেফানোস,দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ফারমার প্রেসিডেন্ট অলোক মুখার্জী, হলদিয়া এনার্জি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুদীপ্ত কুমার মুখার্জী সহ অন্যান্যরা।
Powered by Blogger.