ভট্টাচার্য পরিবারের কালী পুজোয় আজও প্রাসঙ্গিক বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম!

[pullquote align="normal"] [/pullquote]


জয়ন্ত সাহা, আসানসোল :আসানসোল প্রায় ৩১৫ বছর পুরাতন এই কালীপূজায় আজো হাজারো মানুষ পুজোর দিন জড়ো হন ।এই পুজো প্রথমে চক্রবর্তীদের হলেও বর্তমানে ভট্টাচার্য্য পরিবারের সদস্যরাই পুজো করে আসছেন ।কথিত আছে কাজী নজরুল ইসলাম তার ছোট বেলায় এই মন্দিরে দীর্ঘ সময় চুপচাপ চোখ বন্ধ করে বসে থাকতেন এবং পুজোর সময় কাজী নজরুল ইসলামের কাছে এই কালীপুজো যেন ছিল তার নিজের ঘরের পুজো । নজরুল কালী সাধনা করেছিলেন ,শ্যামা সঙ্গীত রচনা করেছিলেন ।কথিত আছে চুরুলিয়ায় ভট্টাচার্যের কালী মন্দিরে বসে বসেই কবির শাক্ত দর্শনের প্রতি ঝোঁক বারে ।১৯৬৬ সালে ১০০ টি শ্যামা সংগীত সমৃদ্ধ গ্রন্থ রাঙা জবা প্রকাশিত হয় ।যেখানে পুরুলিয়ার ভট্টাচার্য্য দের কালির কথা উল্লেখিত আছে ।আজও কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পূজার সময় কাজী নজরুল ইসলামের শ্যামা সংগীত বাজানো হয় ।এই পরিবারের কালীপুজো আরো অন্য কালীপুজোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কারন-

প্রায় তিনশো বছর আগে এই কালীপুজোর প্রচলন করেছিলেন ওই পরিবারের পূর্বপুরুষ স্বর্গীয় লক্ষীকান্ত ভট্টাচার্য ।ভট্টাচার্য পরিবার বহুদিন আগে বীরভূম জেলার রাওতোড়া গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন চুরুলিয়াতে ।তাদের আগে বাড়ি রাওতোড়াতে কালী পুজো হত ।এই পরিবারের পূর্বপুরুষ লক্ষীকান্ত ভট্টাচার্য স্বপ্নাদেশ পান যে পুরনো বাড়ি থেকে মাকে নিয়ে এসে চুরুলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে ।সেই মতো চুড়ুলিয়া ভট্টাচার্য পরিবারের কালি পুজো শুরু হয়। ভট্টাচার্য্য পাড়ার কালী মন্দিরে রয়েছে পঞ্চমুন্ডির আসন যদিও সেটা বর্তমানে মাটির নিচে রাখা হয়েছে ।এখানে তন্ত্রমতে কালির পুজো করা হয় ।কালী পুজোয় বসার আগে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয় ।এরপর পটল পুজো ,গুরু পুজো হয় পরে একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে চক্রানুষ্ঠান করা হয় ।এখানে মদ দিয়ে পুজো করে গুরু শিষ্যের মধ্যে সেই কারণ অর্থাৎ মদ পান করা হয় কারণ অর্থাৎ মদ একটি পাত্রে দিয়ে শোধন করার পর সাতটি পাত্রে স্থাপন করা হয়। এরপর সাত রকম পদ্ধতিতে বিরাচারী পুজো করা হয়। সেই পাত্রের মধ্যে তিনটি পাত্র মায়ের মন্দিরে নিয়ে আসা হয় মহা শঙ্খের মালাই করে ।এই তিনটি পাত্র কে বলা হয় বীর পাত্র ,জলনী পাত্র এবং কপাল পাত্র। ভট্টাচার্য্য পরিবারের সদস্য জ্ঞানানন্দ ভট্টাচার্য জানান চক্র অনুষ্ঠানের পর মায়ের মূল মন্দিরে পুজো শুরু হয় পুজোর সময় একদিকে মেয়েরা প্রদীপ জ্বালিয়ে শঙ্খধ্বনি উলুধ্বনি গান বাজনা করেন অপরদিকে ঢাকের শব্দে মায়ের পুজো হয় যার ফলে পূজোর মন্ত্র কেউ শুনতে পায় না কিন্তু বর্তমানে গানের বদলে নজরুলের রচিত শ্যামা সংগীত বাজানো হয় তাই এই পরিবারে পুজোয় কবির সেই বিখ্যাত লেখা
"মার হাতে কালি মুখে কালি,
মা আমার কালি মাখা, মুখ দেখে মা পাড়ার লোকে হাসে খালি/ মোর লেখাপড়া হলো না মা ,আমি "ম" দেখতেই দেখি শ্যামা /আমি "ক"দেখতেই কালী বলে নাচি দিয়ে কর তালি।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.