শোভনের উপর বেজায় চটেছেন মুখ্যমন্ত্রী! চক্ষুশূল কানন?


পদত্যাগ করা সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী ও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওপর বেজায় চটেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মন্ত্রিসভা থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায় ইস্তফা দেওয়ার পরই তাঁকে মেয়রের দায়িত্ব থেকেও সরে যেতে বলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী৷ কারণ প্রিয় ভাই কাননের মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোভনের ওপর ক্ষুব্ধ দিদি৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আগেও চার-পাঁচবার ইস্তফা দিতে চেয়েছিল, যে যেতে চায় তাকে আটকে রাখা যায় না৷’ প্রশ্ন উঠছে মেয়রের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর কি তবে দল থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হবে?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার কথায়, ‘‘ঘটনার সূত্রপাত অনেকদিন আগেই৷ দিদি অনেক সময় দিয়েছেন শোভনকে শুধরে নেওয়ার জন্য৷ কিন্তু দিদিরও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে৷ অনেকদিন ধরেই দলের অন্দরে কথা বার্তা চলছিল শোভনকে নিয়ে৷

(আরও পড়ুনঃ মেয়র ইস্তফা,নয়া সিলেকশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি)


 ব্যক্তিগত সমস্যায় জর্জরিত শোভন দলের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছিলেন না৷ তাই তাঁকে একে একে দলের সমস্ত দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছিল৷ শোভনের ওপর দিদি এতটাই বিরক্ত যে দলের বর্ধিত কোর কমিটির বৈঠকে একবারও তার নাম মুখে পর্যন্ত আনেননি৷’’ তিনি আরও বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসকে মন থেকে ভালোবেসে কেউ সঙ্গে থাকতেই পারে৷ তবে বহিষ্কার করা না হলেও তিনি যে ইতিমধ্যেই দিদির চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন তা গতকাল মেয়র পদ থেকে সরে যেতে বলার পরই স্পষ্ট হয়েছে৷’একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এবছর কালীপুজোতে দিদির বাড়িতেও দেখা যায়নি৷ কালীঘাটে ওইদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত নেতারা হাজির হলেও দেখা যায়নি শোভনকে৷ এমনকি ভাইফোঁটাতেও দিদির বাড়িতে ফোঁটা নিতে যাননি শোভন৷ জল্পনা চলছিল তখন থেকেই৷ দলের কোনও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর তেমন ভাবে এখন আর যোগাযোগ নেই৷ অনেকেই মজা করেন বলেন, ‘এখন আর শোভনের সময় কই আমাদের সঙ্গে কথা বলার৷ ওর এখন অনেক বন্ধু’

তবে এখন কি করবেন শোভনবাবু? রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়৷ তিনি কি বিজেপিতে যোগদান করছেন৷ কারণ বিজেপি নেতা মুকুল রায় আগেই দাবি করেছিলেন, লোকসভা ভোটের আগে অনেকগুলি উইকেট পড়বে তৃণমূলে৷ এমনও জল্পনা,মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়ে সেই পথেই এগোচ্ছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তবে শোভনবাবুর ইস্তফা দেওয়ার পরই বিজেপির দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের দরজা খোলা আছে৷ তবে আমরা একটা জাল লাগিয়ে রাখব যাতে যে কেউ ঢুকে না পড়তে পারে৷’’ যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘শোভনের ইস্তফার পেছনে অন্য গল্প রয়েছে৷ বিজেপিতে নাম লেখানোর জন্য তিনি এতবড় সিদ্ধান্ত নেননি৷’

এদিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগ নিয়ে সিপিএম বিধায়ক তথা বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বৈশাখী নয়, এর পিছনে অন্য কারণ আছে৷ তিনি বলেন,‘‘যদু বংশ ধ্বংস হওয়ার পথে৷ রাম রাখবেন নাকি শ্যামকে রাখবেন৷ এরা তোলাবাজ, তোলাবাজদের মধ্যে লড়াই৷

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে৷ শোভন জায়া রত্না বারবারই তাঁর নতুন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন৷ তার জন্যই নাকি শোভনের এই পরিণতি এমনটাই বিশ্বাস রত্নার৷ তবে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর শোভন চট্টোপাধ্যায় কিমবা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যায়নি৷ এখন সময়ই বলবে জল কোনদিকে গড়াবে ৷
Powered by Blogger.