মধুমিতার অঙ্গদানে প্রাণ ফিরল কলকাতাবাসীর



জয়ন্ত সাহা, বাঁকুড়াঃ বাঁকুড়া মেজিয়া থার্মাল পাওয়ারের সিআইএসএফ জওয়ানের তেরো বছরের কন্যা মধুমিতা বাইনের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ।বাবা দিলীপ বাইনকে তাঁর সহকর্মীরা এমতাঅবস্থায় মেয়ের অঙ্গ দান করার কথা বোঝায় পিতা মাতার সম্মতিক্রমে দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের চিকিত্সকরা এস এস কে এম হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।জানা যায়, বেলা একটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত জাতীয় সড়কে গ্রিন করিডরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে মাত্র দুই ঘণ্টায় অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি নিয়ে কলকাতায় পৌঁছনো যায়।বর্ধমান মেডিকেলে কলেজের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্টেট অর্গ্যান কমিটির প্রতিনিধি দল ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো নিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

আইন অনুযায়ী এর ১২ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল ১০টা নাগাদ মধুস্মিতার দ্বিতীয় দফার অ‍্যাপনিয়া টেস্ট করা হয়। এরপর মধুস্মিতার অঙ্গদানে সম্মতি দেয় পরিজনরা। অবশেষে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও SSKM-র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ ১০ জনের প্রতিনিধি দল আজ দুপুর আড়াইটা নাগাদ দুর্গাপুরের দা মিশন হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। মধুস্মিতার দেহ থেকে কিডনি, কর্নিয়া ও লিভার তুলে নিয়ে সন্ধ্যা সাতটা কুড়ি মিনিট নাগাদ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন চিকিৎসকরা। ঠিক রাত ৯ টা ৩৮ মিনিটে কলকাতায় গাড়ি এসে পৌঁছায়। কিশোরীর কর্নিয়া দান করা হয়েছে বেসরকারি একটি আই ব্যাঙ্ককে।
মধুস্মিতার লিভার ও ২টি কিডনির সঙ্গে কর্নিয়াও আনা হয়েছে কলকাতায়। তার হৃদয় প্রতিস্থাপনের জন্য অনেকে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু, ওই কিশোরীর হৃদয় কোনও গ্রহীতার সঙ্গে ম্যাচ করেনি বয়স কম হওয়ার জন্য। এই কারণে তার হৃদয় অন্য কারও শরীরে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হল না বলে জানিয়েছেন SSKM হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

মধুস্মিতার দুটি কিডনি যে দুজনের শরীরের প্রতিস্থাপিত হয়েছে তাঁদের একজন দমদমের বাসিন্দা। ২০ বছরের ওই কিডনি গ্রহীতার নাম অভিষেক মিশ্র। চারবছর ধরে তিনি কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত। অন্য কিডনি গ্রহীতার নাম মিঠুন দালাল। ২৩ বছরের এই যুবক নদিয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা। গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত। গতরাতেই এই দুই গ্রহীতার শরীরে মধুস্মিতার ২টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে মধুস্মিতার লিভার প্রতিস্থাপিত করা হচ্ছে ব্যারাকপুরের বাসিন্দা ৪৪ বছরের সঞ্জিত বালার শরীরে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লিভার প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।

এতদিন পর্যন্ত কলকাতার হাসপাতালে ব্রেন ডেথের পরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য গ্রিন করিডরের ঘটনা ঘটলেও জেলা থেকে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে কলকাতায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা এই প্রথম। দুর্গাপুরের বেসরকারি ওই হাসপাতাল থেকে SSKM হাসপাতালে মধুস্মিতার লিভার এবং দুটি কিডনি আনার জন্য রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশ গ্রিন করিডর তৈরি করে‌। এই প্রথম এ রাজ্য তথা পূর্ব ভারতে দীর্ঘ পথ অর্থাৎ প্রায় ১৭৫-১৭৮ কিলোমিটার গ্রিন করিডর করা হয়। 
Powered by Blogger.