একনজরে বারুইপুরের পেয়ারার বাজার


মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিন ২৪ পরগণা :আদি গঙ্গার দুই পাড়েই গড়ে উঠেছে বারুইপুর শহর। আর বারুইপুর নামের সাথেই জুড়ে যায় ফলের নাম। পেয়ারা নাম বলতেই এক কথায় বারুইপুরের নাম আমরা বলে থাকি। আর শুধু দঃ২৪ পরগনা নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এই ফলের নামের সাথে জড়িয়ে আছে বারুইপুরের নাম।


কিন্তু যার এতো নাম, সেই পেয়ারা ব্যবসায়ীরা কেমন করে তাদের পেয়ারা বিক্রি করে জানলে অবাক হবেন। এই দুর্মূল্যের বাজারে পিয়ারা চাষ খুবই কষ্টের। চাষিদের কথায় সার, বিষ ও নানা কীটনাশকের বাজার দর আকাশ ছোঁয়া, তার উপর এই কাজ নতুন করে কেউ করতে চাইছে না ।এই চাষের জমিতে যাবার রাস্তা খুব খারপ, সারা বছরের তিন মাস এর বাজার ভালো থাকে, আর বাকি দিনে সংসার চালানো দায়। বর্ষার মাসে পেয়ারার মুরসুম, এক ২০ পেয়ারার দাম ১০ টাকা, জার খরছ হয় প্রায় ১০০ টাকা, আর বারুইপুরের শুধু পিয়ারা নয় প্রায় সব রকাম ফল এই এলাকায় চাষ হয়। যেমন,আম,জাম,কাঠাল,আঁশফল,জামরুল ও নারকেল,তাছাড়া শুধু ফল নয় নানা সবজীও চাষ এই এলাকায় হয় প্রচুর পরিমাণে কিন্তু সেই সব চাষের ফসল বিক্রির কোন স্থায়ী বাজার নেই এই বারুইপুর গোটা এলাকায়,সমস্ত শাক, সবজী ও নানা ফল বিক্রি হয় রাস্তার পাশে ফুটপাতে ও মেন রাস্তার উপর, সবথেকে কষ্টের দিন এই বর্ষাতে, মাথার উপর কোন চালনেই যতক্ষণ বৃষ্টি হয় ভিজে ভিজেই বিক্রি করতে হয় পেয়ারা এইসব চাষিদের। নইলে নষ্ট হয়ে যায়,তাছাড়া এই রাস্তার উপর বাজার বসায় বেলা বাড়ার সাথে সাথে দোকানপাঠ খুলতে শুরু করে তার জন্যে পেয়ারা সহ অন্যান্য ফলের দাম অনেক কমিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য হয়, ফলে মার খান চাষিরা আর লাভবান হয় ফড়েরা । বাজারে ক্রেতারাও ভালোভাবে কোন জিনিস কিনতে পারেন না, আরও মেন রোডে অনবরত গাড়ি চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঘটে মাঝেমধ্যে, সমস্যায় পড়েন নিত্য অফিস যাত্রিরা ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা যানজটের জন্যে, এছাড়া কাছেই বারুইপুর রেল ষ্টেশন যে কারনে এলাকায় দিনভর লোক সমাগম থাকেই।
চাষিরা চায় তাদের স্থায়ী একটা বাজার ও হিমঘর হোক, যেখানে রোদ জল থেকে বাঁচবে এছাড়া হিমঘর তৈরি হলে নষ্টের ভাগ অনেক টাই কমবে বলে আশাবাদী চাষিরা।
Powered by Blogger.