ভুতুড়ে গ্রামে লক্ষ্মীপূজা

[pullquote align="normal"] [/pullquote]

স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ ৭২ বছরেও কুলটির বেনা গ্রামে মানুষের বসতি স্থাপনের আস্থা ফিরছে না ৷ এক সময় এই গ্রামে নাগরিক পরিষেবার কিছুই পৌঁছায়নি ৷ জল-রাস্তা-বিদ্যুৎ ৷ফলত একসময়ে গ্রামে বসতি করা প্রায় ৫০টি পরিবার জীবিকা ও নাগরিক সুবিধার স্বার্থে গ্রাম ছেড়ে চলে যায় ৷তাদের বসতি করা জীর্ণ বাড়ি গুলি ভগ্নপ্রায় দশায় কিছু কিছু অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে স্মৃতিটুকু আঁকড়ে ধরে থাকে ৷গ্রামের পাশ দিয়ে রেল লাইন চলে যাওয়ায় সহজেই সমাজের দুষ্কৃতিদের আখড়া স্থল হয়ে ওঠে ৷কালক্রমে এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এই বেনা গ্রাম ভুতুড়ে গ্রাম হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করে ৷ দিনে দুপুরেও মানুষ এই অঞ্চল দিয়ে পেরোতে ভয় করত ৷তবে যত যাই হোক, গ্রামের লোকেরা লক্ষীপুজোর দিন সমবেত ভাবে ফিরে গ্রামের লক্ষী মন্দিরে লক্ষী পুজোর আয়োজন করত ৷তবে পুজো সারা হলেই গ্রামের চৌহদ্দিতে আর কেউ থাকতে চাইত না৷কিন্তু ১০৬টি ওয়ার্ড নিয়ে নব নির্মিত আসানসোল পুরসভা গঠিত হবার পর,কুলটির বেনা গ্রাম ৬১নং ওয়ার্ড হিসাবে আসানসোল পুরসভার অন্তর্ভুক্ত হলে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয় এলাকায় ৷ এ ডি ডি এ'র পক্ষ থেকে তৈরী করা হয় রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে পানীয় জলের পাইপ লাইন বসানো হয় ৷ বিদ্যুত সংযোগের খুঁটি পোতার কাজ ও চালু হয় ৷ তবু গ্রামের লোকেদের গ্রামে ফেরার আস্থা ফিরছে না ৷গত বছর লক্ষী পুজোর দিনে গ্রামে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ কতটা এগিয়েছে দেখতে  গ্রামে হাজির হন পুরসভার এম আই সি পূর্ণশশী রায় ৷ তারপরেও শুধু মাত্র লক্ষী পুজোর দিন গ্রামের লোক গ্রামে ফিরতে রাজি থাকলেও বছরের ৩৬৪ দিন অন্ধকারে ডুবে থাকে গ্রাম ৷
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.