দেখুন তারাপীঠে মা তারার আবির্ভাব

[pullquote align="normal"] [/pullquote]


স্নেহা চক্রবর্তী, বীরভূমঃ মঙ্গলবার মা তারার আবির্ভাব দিবস । প্রাচীনকাল ধরেই কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আগে শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে মায়ের আবির্ভাব তিথি পালিত হয়ে আসছে তারাপীঠে। দুর্গা মায়ের বিদায়ে আকাশ বাতাস যখন ভারাক্রান্ত, ঠিক সেই সময় তারা মায়ের আবির্ভাব তিথিতে পুজো দিয়ে পুণ্য অর্জন করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভিড় জমে এই সিদ্ধপীঠে। সাধারণত তারামায়ের মূর্তি উত্তরমুখী। ওই দিন তারামাকে পশ্চিমমুখে বসিয়ে আরাধনা করা হবে।

কথিত আছে, পাল রাজত্বের সময় শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে জয়দত্ত সওদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের শ্বেতশিমুল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনের নীচে থেকে মায়ের শিলামূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজোর সূচনা করেছিলেন। তখন থেকেই এই দিনটি মায়ের আবির্ভাব তিথি হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। তবে এতদিন কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন শুক্লা চতুর্দশীতে মায়ের আবির্ভাব তিথি পালন করা হয়। শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে সূর্যোদয়ের পর মাতারাকে গর্ভগৃহ থেকে বের করে মন্দির সংলগ্ন বিরাম মঞ্চে নিয়ে আসা হয় । মন্দিরের সামনে জীবিতকুণ্ড থেকে জল এনে মাকে স্নান করানোর পর রাজবেশে সাজানো হয় । ওই দিন তারামা পশ্চিম মুখে পূজিতা হন। কারণ পশ্চিম দিকে মায়ের ছোট বোন মলুটি গ্রামের দেবী মা মৌলিক্ষা অবস্থিত । মন্দির কমিটির দাবি , বাংলা ১১০৮ ও ইংরেজি ১৭০১ সালে আবির্ভাব তিথিতে বিরাম মঞ্চে তারামাকে পূর্বদিকে বসিয়ে পুজো শুরু করার তোড়জোড় করছিলেন তদানীন্তন তান্ত্রিক, পুরোহিত ও সেবাইত । এমন সময় মলুটির নানকার রাজা রাখরচন্দ্র মায়ের সামনে আরাধনায় বসেন। যা দেখে তান্ত্রিক, পুরোহিত ও পান্ডারা হৈ হৈ করে ওঠেন এবং রাজাকে আসন থেকে তুলে পুজোপাঠ বন্ধ করে দেন। রাজা মায়ের প্রতি অভিমান করে চলে এসে দ্বারকা নদের পশ্চিম পাড়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে মায়ের পুজো করে মলুটি গ্রামে ফিরে যান। ওই রাতেই প্রধান তান্ত্রিক প্রথম আনন্দনাথকে তারা মা স্বপ্ন দিয়ে বলেন, রাখরচন্দ্র আমার ভক্ত, সে অভিমান করে চলে গিয়েছে। এবার থেকে পুজোর সময় আমার মুখ যেন পশ্চিমমুখে মলুটির কালীবাড়ির দিকে হয়। সেই থেকে বিশেষ এই তিথিতে মাকে পশ্চিমমুখী বসিয়ে পুজো করা হয়। ওই দিন সকালে মায়ের বিশেষ পুজো ও মঙ্গলারতির পর সর্বসাধারণের জন্য বিরাম মঞ্চ খুলে দেওয়া হয় । এদিন সকলে মাতারাকে স্পর্শ করে পুজো দিতে পারবেন।
প্রতিদিন দুপুরে মাতারা কে ভোগ নিবেদন করা হলেও আজ মায়ের কোনও অন্নভোগ হয় না। তাই সেবাইতরাও উপবাসে থাকেন। সন্ধ্যায় মায়ের আরতির পর খিচুড়ি ও পাঁচরকম ভাজা দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই প্রসাদ খেয়ে উপবাস ভাঙেন সেবাইতরা। এরপর মাকে গর্ভগৃহে ফিরিয়ে এনে স্নান করিয়ে ফের পুজো ও আরতি করা হয় । এই আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে মন্দির চত্বর রকমারি আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে একসময় এই তিথিতে মেলা বসত। দূর-দূরান্ত থেকে গরুর গাড়িতে করে ভক্তরা আসত। এখনও মেলা বসে। তবে জায়গার অভাবে সেই মেলা তার আকর্ষণ হারিয়েছে।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.