বাঘ মুখ থেকে ফিরল না মৎস্যজীবি

[pullquote align="normal"] [/pullquote]

মৃন্ময় নস্করঃ আজ কোজাগরী পূর্ণিমা। নদীতে জোয়ারের জল ঢুকছে কুলকুল শব্দে। ছোট আঁকা বাঁকা নদীতে তখন লাফালাফি করছে গুলে, চিংড়ি পার্শের মত মাছেরা। বড় বড় সমুদ্র কাঁকড়াদের অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে ঝোপে ঝাড়ে। তাই দেখে নদীর মোহনা থেকে খাঁড়ির মধ্যে এসে নৌকার বৈঠা নামিয়ে পচা মাছ দিয়ে বানানো থোপা ফেলতে শুরু করেছে সবে মাত্র।অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে কাঁকড়ার টান ও শুরু হয়েছে থোপার দড়িতে। তাই দেখে নিজেদের অবস্থান ঠিক করলেন তিন মৎস্যজীবী। কিছুক্ষন কাঁকড়া ধরার পর ওমনি ঝপাৎ শব্দে দুলে উঠলো হাত চল্লিশের ডিঙি নৌকা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেতাল ঝোপের মধ্যে দক্ষিণ রায়। মুখে মধুসূদনের দেহ।মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করছে সে। বাঘের থাবায় ততক্ষনে ক্ষতবিক্ষত মধুসূদন। নোনা কাদা মাটিতে ছড়িয়ে আছে মধুসূদনের কাঁচা রক্ত। সঙ্গীর এই মৃত্যু যন্ত্রনা দেখে আর ঠিক থাকতে পারে নি আমরা।মৃত সঙ্গীর দেহ নিয়ে গোসাবার ঘাটে এসে একথাই জানাচ্ছিলেন সঙ্গী সুপদ বরকন্দাজ ও বিমল মন্ডল।কথা গুলি বলতে বলতে নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়া চাওয়ি করেছিলেন। ভয় ও আতঙ্ক তখন ও তাড়া করে বেড়াচ্ছে দুই সঙ্গীর মধ্যে। মাঝে মধ্যে শিওরে উঠলেন ভয়ে।শিওরন উঠলো শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গে।

       ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবন ব্যাঘ্রপ্রকল্পের  পীরখালীর জঙ্গল সংলগ্ন লেবুখালী নদীতে।     সোমবার গোসাবার সত্যনারায়ণপুর গ্রাম থেকে কাঁকড়া ধরতে যান তিন মৎস্যজীবী। বুধবার সকালে মৎস্যজীবীদের দল টি কাঁকড়া ধরায় যখন ব্যস্ত ছিল তখনিই বাঘ লাফ মারে মধুসূদন মন্ডলের ঘাড়ে। বছর তিপান্ন বয়স। অন্য দুই সঙ্গী তখন নৌকার মাঝেই বসে কাঁকড়া সংগ্রহ করছিলেন। তখনই বুঝতে পারেন বাঘের আক্রমনে পড়েছেন ওই মৎস্যজীবীদের দলটি । হাতে কাছে থাকা লাঠি নিয়ে বাঘের সঙ্গে লড়াই করেন দুইজন। বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন মধুসূদন কে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাড়িয়ে আনলে ও বাঁচানো সম্ভব হয় নি তাকে। নৌকায় চাপিয়ে আশঙ্কা জনক অবস্থায় গোসাবা হাসপাতালে আনার পথে তার মৃত্যু হয়।  এবিষয়ে সঙ্গী সুপদ বরকন্দাজ বলেন,জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারলে ও বাঁচাতে পারলাম না এটাই আক্ষেপ থেকে গেল।ভেবেছিলাম ও বেঁচে যাবে কিন্তু তা হয় নি।গ্রামে ফিরে এসে মৎস্যজীবী দের দলটি ব্যাঘ্রপ্রকল্পের অফিসে এসে অভিযোগ দায়ের করেছে। দেহ টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে গোসাবা থানার পুলিশ। গোসাবা হাসপাতাল সূত্রে খবর বাঘের আঘাতে দেহে একাধিক ক্ষত হওয়ায় অতিরুক্ত রক্ত ক্ষরন হয়। আর সেই কারনেই মৃত্যু হয়েছে।
কোজাগরীর জ্যোৎস্না স্নাত রাতে অন্ধকার নামলো সুন্দরবনের আর একটি পরিবারে।অসহায় হয়ে পড়লেন পরিবারের অন্য সদস্যরা।কারন চারজনের পরিবারে তিনিই ছিলেন এক মাত্র রোজগেরে সদস্য। 
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.