বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

[pullquote align="normal"] [/pullquote]



সাইফুল আলম,বাংলাদেশ, ২৬ অক্টোবর: বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার বাকি আর এক সপ্তাহ। এ অবস্থায় একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ইসি সচিবালয়।

২৭ অক্টোবর দেশের আট অঞ্চলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে পুরো কমিশন ও ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা যাচ্ছেন ঢাকার বাইরে।

এরপর ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডাকা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম নূরুল হুদার নেত্বতেৃ চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব ১ নভেম্বর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভোটের সময়সূচি ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, “ আগামী ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশেল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করব আমরা। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সেদিনই দেওয়া হবে।”

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরই কমিশন সভা ডাকা হতে পারে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, “কমিশন সভার বিষয়ে সিইসি মহোদয়ের নির্দেশনা এখনও পাইনি। তিনি যেদিন বলবেন, সেদিন কমিশন সভা হবে। ওই সভায় তফসিল অনুমোদন হবে। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারে জাতির উদ্দেশে ভাষণের মধ্য দিয়ে তফসিল ঘোষণার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিলও জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছিল। ইসি কার্যালয়ে সিইসির সেই ভাষণ রেকর্ড করা হবে। তারপর নির্ধারিত সময়ে তা প্রচার করা হবে। ধারণ করা ভাষণ সাধারণত সন্ধ্যায় প্রচার করা হয়।

দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিটিভি মহাপরিচালক ও বেতার মহাপরিচালক ইসি সচিবের দপ্তরে এসেছিলেন। তফসিল ঘোষণার দিন ২৫ নভেম্বর সিইসির ভাষণ ধারণের জন্য দুপুরেই প্রস্তুতি শুরু হয় কমিশন কার্যালয়ে। বিটিভির তৎকালীন মহাপরিচালক নিজে উপস্থিত থেকে সিইসির কক্ষ সাজানোর বিষয়টি তদারক করেন। পরে তৎকালীন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের প্রায় আধা ঘণ্টার সেই ভাষণ ধারণ করা হয়।

সেদিন সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রেকর্ডিং শেষে কমিশনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সিইসি বলেছিলেন, তার ভাষণে ‘সব’ প্রশ্নের উত্তর মিলবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত সিইসির সেই ভাষণে দশম সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিটিভি মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ ও বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল বুধবার পর্যন্ত সিইসির ভাষণ রেকর্ড করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন।

বিটিভি মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীল বলেন, “আমি এখনও ইসির কোনো চিঠি বা ভাষণ রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য পাইনি। নির্বাচন কমিশন যখনই বলবে আমরা সেজন্য প্রস্তুত থাকব।”

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালকও একই কথা জানান।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ৩১ অক্টোবের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে কমিশনের নির্দেশনা পেলে বিটিভি ও বেতারকে এ বিষয়ে তারা জানাবেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার ইসি সচিব হেলালুদ্দীন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রচারের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ দিন সময় রাখা হয়।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রথম সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগে ৬০ দিন, দ্বিতীয় নির্বাচনের আগে ৫৪ দিন, তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, চতুর্থ তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৬৯ দিন, পঞ্চম তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৭৮ দিন, ষষ্ঠ তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, সপ্তম তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন, অষ্টম তৃতীয় নির্বাচনের আগে ৪২ দিন, নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৭ দিন এবং দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪২ দিন সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.