"দিদির ধনে ধনী, সেই দিদিকে দু:খ দিলেন দারুণ অভিমানী"

[pullquote align="normal"] [/pullquote]



"একটি মানুষ চিনি যিনি দিদির ধনে ধনী। সেই দিদিকে দুঃখ দিলেন দারুন অভিমানী" । একে একে সব ছেড়ে দিচ্ছেন কুরবানী । দিদির দয়ায় এত প্রাপ্তি বড় ধনী মানি। এখন তিনি দলের থেকে দুরে নিরাপদ! অনেকেই ভাবছেন দলের শনি।এক দ্রুত উত্থান চাক্ষুষ করলাম । একেবারে চোখের সামনে । সামান্য থেকে অসামান্য হয়ে ওঠার এমন হাতে গরম কাহিনী খুব একটা দেখা যায় না । অথচ আমাদের সবার সামনে এই উদাহরণ উপস্থিত।শোভন চ্যাটার্জী ২০১০ দিদির দানে বসলেন অতি সম্মাননীয় কলকাতা মেয়র পদে । তারপর ২০১১ ক্ষমতায় আসার পর পেলেন দলের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সভাপতির পদ। তারপর ক্ষমতায় একের পর এক উত্তোরেণর সিড়িভাঙ্গার খেলা। মুকুল রায় ঝরে পড়লেন দলের বৃন্ত থেকে । শোভনের আরও কদর বাড়ল দিদির কাছে। পেলেন দলের কলকাতা জেলারও সভাপতির দায়িত্ব।

২০১৬ বিধান সভার পর মেয়রের পদ ধরে রেখেও তিনটি দপ্তরের মন্ত্রীত্ব পেলেন দিদির ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে । বলা ভালো বাগিয়ে নিলেন । হয়ে গেলেন দলের দ্বিতীয় স্থানীয় ক্ষমতাশালী। অসীম ক্ষমতাবান । ধরাকে সরা জ্ঞান করা বললেও অত্যুক্তি হবে না । তবে ওঠার আর জায়গা ছিলনা। ক্ষমতার যতটা উচ্চতায় ওঠা সম্ভব ততটাই উঠে গিয়েছিলেন শোভন। এবার নামার পালা।২০১৬ তে তার চূড়ান্ত উত্থান, আবার সেই বছরই তার নামার বিপরীত রাস্তা শুরু হয় । নারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশে আসে। ধীরে ধীরে সেই কেলেঙ্কারি নিজের সংসারে ঢুকে পড়ে । শুরু পারিবারিক অশান্তি । শোভন বিচ্ছিন্ন হতে থাকেন পরিবার থেকে । সেই ভাঙ্গনের ফাটল দিয়ে ঢুকে পড়েন অন্য এক নারী । তার আগমনে মনের শান্তি ফিরে আসতে থাকে । বিপরীত দিকে দলের প্রতি অভিমান জন্মাতে থাকে। আবার দিদির বিষনজর পড়েন। প্রথমে একটি দপ্তর হাতছাড়া হয়ে যায় । পরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সভাপতির পদ। পরে রাজ্যের পৌরসভাগুলির অবজারভার এর দায়ীত্ব হারান। শেষের টি চলে যায় তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ববি হাকিমের হাতে। অভিমান আরও তীব্র হতে থাকে। এবার পুজোতে তাকে দিদির সঙ্গে উদ্বোধনে দেখা যায় নি । অন্য বছর যেটা ভাবা যেত না। এই অবনমনের কোথায় শেষ যানা নেই। তবে এহেন উত্থান পতন ইতিহাসে পড়লেও এই প্রথম দেখলাম । তবে ট্রাজেডির এখনও অনেক বাকী। মানুষের কান্না । মানুষের অভিশাপ । মানুষের বদ্ দোয়া এইসব ক্ষমতাবানদের পেছনে তাড়া করে। কেননা এরা বহু মানুষের সর্বনাশ করেন ক্ষমতার জোরে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে চাইব কেউ যেন তাকে অভিশাপ না দেন। তিনি সুখে শান্তিতে থাকুন । তবে সব থেকে জরুরি দিদির আস্থা অর্জন সেটা করুন। আবার ফিরে আসুন ।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.