বাংলাদেশের দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারী

[pullquote align="normal"] [/pullquote]


সাইফুল আলম, বাংলাদেশঃ বাংলাদেশের জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে। এরই মধ্যে বড় দুই রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন।

এদিকে বাংলাদেশের ২০ দলীয় জোট বিএনপির দেয়া সাত দফা দাবি না মেনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ‘ঝড় উঠবে’ বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও তাদের দাবিতে নত নয় সরকার।

বিএনপি নেতা মওদুদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড়ের মধ্যে সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি সম্বলিত ৭ দফা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপি ও তাদের নতুন জোটের ৭ দফাতে সরকার সাড়া না দেওয়ার মধ্যে শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বক্তব্যে এই হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

তিনি বলেন, যদি আমাদের দাবি না মেনে তফসিল ঘোষণা করেন, তাহলে বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠবে। সেই ঝড়েই ইনশাল্লাহ আমরা আবার একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার ব্যবস্থা করতে সক্ষম হব।

ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনে নভেম্বরের শুরুতেই তফসিল ঘোষণা করতে চায় ইসি। ৭ দফা নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংলাপের আহ্বান জানালেও তাতে কোনো সাড়া দেয়নি সরকার।

মওদুদ বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া একটি স্বৈরাচারী সরকারকে অপসারণ করা সম্ভবপর না। এই ঐক্যের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হবে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু তৃণমূল নয়, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। আমিসহ আমাদের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির নেতারাও রয়েছেন। এটা পরিকল্পিভাবে সরকার করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তাঁরা বুঝতে পেরেছে কোনো রকমের একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে পরাজিত হবে। সেজন্য তারা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মতো নির্বাচন করতে চাইলে সরকার ‘ভুল’ করবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজা বাতিল এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, হাবিবউন নবী খান সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মামুন হাসান, ইসহাক সরকার, রবিউল ইসলাম নয়নের মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সভা হয়।

অন্যদিকে ঢাকার উত্তরায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “সাত দফার এক দফাও মানা হবে না, এগুলো অযৌক্তিক দাবি।

সংসদ ভেঙে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি ও তাদের নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই দাবি আদায়ে আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয় সম্প্রতি সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে।

তাতেও কোনো চাপ অনুভব না করার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এত বড় ঐক্যফ্রন্ট! কয়টা লোক হল? বড় বড় বাঘা বাঘা নেতারা সেখানে গেলেন বোমা ফাটাতে, জনগণের সাড়া কি মিলেছে? কোনোদিন মিলবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, আন্দোলনে যারা বিজয়ী হতে পারে না, নির্বাচনেও তারা বিজয়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের দরকার কী? নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন তো আছে। নির্বাচন যখন হবে, তখন নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে। এই নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি নিরপেক্ষ। আর পরিবর্তনের সময় কই, মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে এই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এখানে বিএনপির লোকও তো আছে।

ইসিতে মতভেদের বিষয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, এটা কি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে পাঁচজন সর্বসম্মত না দিলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না? এখানে পাঁচজনের মেজরিটি যা বলে, তাই সিদ্ধান্ত। এটা বিভক্তি নয়।

বিএনপি নিষ্ক্রিয় ‘সংস্কারপন্থি’দের সক্রিয় করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে তাদের দেউলিয়াত্মের প্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি কতটা দেউলিয়া যে এখন আবার তাদের নেওয়া হয়েছে। দলের লোকজনকে সংস্কারপন্থি বলে কোনঠাসা করে রেখেছিল বিএনপি। এখন এই লোকরা এসে আন্দোলনে শক্তি জোগাবে, এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তাছাড়া ফখরুল সাহেব নিজেও সংস্কারবাদী ছিলেন।

কৃষক, শ্রমিক, জনতা লীগের আবদুল কাদের সিদ্দিকী সাত দফা সমর্থনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাদের বলেন, করুক, আরও বাড়ুক তারা। নেতায় নেতায় ঐক্য হোক, তাতে জনসমর্থন পাবে না।
[pullquote align="normal"] [/pullquote]
Powered by Blogger.